সরল ভাবার্থ
আমাকে সমস্ত যজ্ঞ ও তপস্যার ভোক্তা, সকল লোকের মহেশ্বর এবং সমস্ত প্রাণীর সুহৃদ (অকৃত্রিম বন্ধু) বলে জেনে মুনিগণ পরম শান্তি লাভ করেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি হলো ৫ নম্বর অধ্যায়ের উপসংহার এবং গীতার অন্যতম 'শান্তি মন্ত্র'। এখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর তিনটি বিশেষ রূপের কথা বলেছেন:
১. ভোক্তারং: আমরা যা কিছু ভালো কাজ করি (যজ্ঞ) বা কষ্ট সহ্য করি (তপস্যা), তার শেষ ফল আসলে তাঁরই চরণে পৌঁছায়। যখন আমরা ভাবি যে আমিই সবকিছুর ভোক্তা, তখন আমরা অশান্ত হই। কিন্তু যখন জানি যে সবকিছুর আসল অধিকারী ঈশ্বর, তখন মন শান্ত হয়।
২. সর্বলোকমহেশ্বরম্: তিনি কেবল আপনার বা আমার ঈশ্বর নন, তিনি অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি। এই বিশালতার কথা ভাবলে আমাদের নিজের ছোট ছোট সমস্যাগুলো নগণ্য মনে হয়।
৩. সুহৃদং সর্বভূতানাং: এটি সবচেয়ে মিষ্ট কথা। ঈশ্বর কোনো ভয়ের দেবতা নন; তিনি হলেন সব প্রাণীর সবচেয়ে কাছের বন্ধু (সুহৃদ)। মা যেমন সন্তানের মঙ্গল চান, ঈশ্বর তাঁর চেয়েও বেশি আমাদের মঙ্গল চান। সুহৃদ মানে হলো—যিনি কোনো স্বার্থ ছাড়াই উপকার করেন।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের পরম নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। আমরা যদি জানি যে আমাদের পরম বন্ধু স্বয়ং ভগবান, তবে ভয় কিসের? অর্জুনকে কৃষ্ণ এই পরম ভরসা দিলেন যাতে তিনি নিজেকে একা মনে না করেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হলে কেবল নিজের শক্তি নয়, ঈশ্বরের পরম বন্ধুত্ব ও করুণার ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি। এখানেই পরম শান্তি।