॥ অধ্যায় ৫, শ্লোক ৪ ॥

সাংখ্যযোগৌ পৃথগ্বালাঃ প্রবদন্তি ন পণ্ডিতাঃ ।
একমপ্যাস্থিতঃ সম্যগুভয়োর্ভিন্দতে ফলম্ ॥ ৫.৪ ॥

সরল ভাবার্থ

অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিরাই সাঙ্খ্য (জ্ঞানযোগ) এবং কর্মযোগকে ভিন্ন বলে মনে করে, পণ্ডিতগণ নয়। কারণ যেকোনো একটিতে সম্যকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে উভয়েরই ফল (মোক্ষ) লাভ করা যায়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে ধর্মের উদারতা এবং একত্বের কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সত্যে পৌঁছানোর রাস্তা আলাদা হলেও গন্তব্য এক।

১. বালাঃ বা অল্পবুদ্ধি: যারা কেবল ওপর ওপর বিচার করে, তারাই মনে করে জ্ঞান মার্গ আর কর্ম মার্গ আলাদা। তারা ভাবে যে জ্ঞানীরা কেবল বই পড়ে আর কর্মীরা কেবল কাজ করে। কিন্তু কৃষ্ণ এদের 'বালক' বা অপরিণত মস্তিষ্কের মানুষ বলছেন।

২. পণ্ডিতগণের দৃষ্টি: একজন প্রকৃত জ্ঞানী জানেন যে সাঙ্খ্য (যা বিশ্লেষণ করে যে আত্মা আলাদা) এবং কর্মযোগ (যা নিষ্কামভাবে কাজ করতে শেখায়) শেষ পর্যন্ত মানুষকে একই বিন্দুতে নিয়ে আসে। সাঙ্খ্য শেখায় 'আমি কিছু করছি না', আর কর্মযোগ শেখায় 'সব ঈশ্বর করছেন'। দুটি ক্ষেত্রেই 'অহংকার' নাশ হয়।

৩. একমপ্যাস্থিতঃ (একটি পথ ধরলেই হয়): আপনাকে একই সাথে দশটা নৌকায় পা দেওয়ার দরকার নেই। আপনি যদি আপনার কর্মকে সততার সাথে যজ্ঞ বানিয়ে তোলেন, তবে আপনার আলাদা করে জ্ঞান অর্জনের পরিশ্রম করতে হবে না। আবার কেউ যদি তাত্ত্বিকভাবে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করেন, তবে তাঁর কর্ম এমনিতেই নিষ্কাম হয়ে যাবে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সাম্প্রদায়িকতা বা মতভেদ থেকে দূরে রাখে। হিন্দু ধর্মে নানা মত পথ থাকলেও কৃষ্ণ বলছেন সব পথই বৈধ যদি লক্ষ্য স্থির থাকে। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি কোনো একটি পথ নিয়ে বেশি তর্কে না জড়িয়ে সরাসরি সাধনায় (যুদ্ধে) মন দেন। এটি আমাদের শেখায় যে তত্ত্ব নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে যেকোনো একটি সৎ পথ ধরে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।