সরল ভাবার্থ
সাঙ্খ্যযোগীদের দ্বারা যে পরম পদ (স্থান) প্রাপ্ত হওয়া যায়, কর্মযোগীদের দ্বারাও সেই একই স্থান প্রাপ্ত হওয়া যায়। যিনি সাঙ্খ্য এবং কর্মযোগকে এক বলে দেখেন, তিনিই প্রকৃত সত্য দেখেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি এই অধ্যায়ের এক চূড়ান্ত সমন্বয়কারী শ্লোক। শ্রীকৃষ্ণ এখানে আধ্যাত্মিক গণতন্ত্রের এক মহান উদাহরণ দিয়েছেন।
১. একই গন্তব্য: ধরুন একটি পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হবে। একজন হয়তো খাড়া রাস্তা দিয়ে সরাসরি উঠছেন (সাঙ্খ্য), আরেকজন হয়তো পাহাড়ের চারপাশ দিয়ে ঘুরে ঘুরে উঠছেন (কর্মযোগ)। শেষ পর্যন্ত দুজনেই একই চূড়ায় পৌঁছাবেন। তেমনি জ্ঞানীর লক্ষ্য যে ব্রহ্ম বা মুক্তি, কর্মযোগীর লক্ষ্যও সেই একই ব্রহ্ম।
২. যঃ পশ্যতি স পশ্যতি (যিনি দেখেন তিনিই দেখেন): এই বাক্যটি অত্যন্ত গভীর। এর অর্থ হলো, বাকি সবাই অন্ধ। যারা মনে করে যে কর্ম আর জ্ঞান আলাদা, তারা আসলে মায়ার মধ্যে আছে। কেবল সেই ব্যক্তিই প্রকৃত 'চক্ষুষ্মান' বা দর্শনধারী যিনি দুটির ভেতরে একত্ব খুঁজে পান।
৩. মানসিকতা ও প্রয়োগ: সাঙ্খ্যযোগীরা ধ্যানের মাধ্যমে বোঝেন যে জগত নশ্বর। আর কর্মযোগীরা মানুষের সেবার মাধ্যমে বোঝেন যে সবকিছুর ভেতরে ভগবান আছেন। শেষ পর্যন্ত দুজনেরই 'স্বার্থপরতা' দূর হয় এবং তারা পরম শান্তিতে লীন হন।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সংকীর্ণতা দূর করতে সাহায্য করে। আমরা প্রায়ই অন্যের সাধনার পথকে ছোট করে দেখি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, সব পথই এক যদি তা আন্তরিক হয়। অর্জুনকে এটি জানানো হলো যাতে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমেও সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন যেখানে একজন মহান ঋষি ধ্যানের মাধ্যমে পৌঁছান। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবন একটি অখণ্ড সাধনা। কর্মকে জ্ঞান থেকে আলাদা করা যায় না, যেমন আগুনকে তার উত্তাপ থেকে আলাদা করা যায় না।