॥ অধ্যায় ৬, শ্লোক ২ ॥

যং সংন্যাসমিতি প্রাহুর্যোগং তং বিদ্ধি পাণ্ডব ।
ন হ্যসংন্যস্তসঙ্কল্পো যোগী ভবতি কশ্চন ॥ ৬.২ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পাণ্ডব! যাকে মানুষ সন্ন্যাস বলে মনে করে, তাকেই তুমি যোগ বলে জানো। কারণ নিজের মনগড়া বাসনা বা সঙ্কল্প ত্যাগ না করে কেউ কখনো যোগী হতে পারে না।

ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

এই শ্লোকটি সন্ন্যাস এবং যোগের মধ্যকার কৃত্রিম দেওয়াল ভেঙে দেয়। এখানে 'সঙ্কল্প' শব্দটির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

১. সংকল্প ত্যাগ: সংকল্প হলো মনের সেই স্তর যা আমাদের সারাক্ষণ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা কামনার জালে জড়িয়ে রাখে। আমি এটা ভোগ করব, এটা আমার হওয়া উচিত—এই ধরনের মানসিক পরিকল্পনা যতদিন মনে থাকে, ততদিন যোগ সম্ভব নয়।

২. সন্ন্যাস ও যোগের ঐক্য: সন্ন্যাস মানে বিষয়ের ত্যাগ, আর যোগ মানে ঈশ্বরের সাথে মিলন। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, বিষয়ের আসক্তি ত্যাগ না করলে ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়া অসম্ভব। তাই দুটির ভিত্তি আসলে একই।

৩. মানসিক শৃঙ্খলা: একজন মানুষ ধ্যানে বসেও যদি মনে মনে সংসারের সঙ্কল্প করে চলেন, তবে তিনি যোগী নন। প্রকৃত যোগী হতে গেলে আগে মনের অপ্রয়োজনীয় ইচ্ছার জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হয়।