আরুরুক্ষোর্মুনের্যোগং কর্ম কারণমুচ্যতে ।
যোগারূঢ়স্য তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে ॥ ৬.৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
যিনি যোগে আরোহণ করতে ইচ্ছুক, তাঁর ক্ষেত্রে নিষ্কাম কর্মই হলো পথ বা উপায়। আর যখন তিনি যোগে প্রতিষ্ঠিত হন (যোগারূঢ়), তখন 'শম' বা মানসিক প্রশান্তিই তাঁর উন্নতির কারণ হয়।
ধর্মীয় ব্যাখ্যা:
সাধনার দুটি স্তরের কথা এখানে বলা হয়েছে। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক ক্রমবিকাশ বুঝতে সাহায্য করে।
১. আরুরুক্ষু অবস্থা: এটি হলো সাধনার শুরুর স্তর। এখানে মন চঞ্চল থাকে। তাই এই স্তরে কাজ (কর্ম) হলো ওষুধ। নিষ্কাম সেবা বা কর্তব্যের মাধ্যমে আমরা মনের অহংকার ও জড়তা দূর করি। হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে মন আরও বিক্ষিপ্ত হয়, তাই কর্মই এখানে উন্নতির সিঁড়ি।
২. যোগারূঢ় অবস্থা: যখন মন শুদ্ধ হয়ে যোগে স্থির হয়, তখন আর অতিরিক্ত বাহ্যিক কর্মের প্রয়োজন থাকে না। তখন প্রয়োজন 'শম' বা গভীর নীরবতা। এই স্তরে অন্তরের শান্তিই তাকে পরমাত্মার আরও কাছে নিয়ে যায়।
৩. উপদেশ: এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে জীবন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আগে কাজের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করো, তারপর ধ্যানের গভীরে যাও। অকালে কাজ ছেড়ে দিলে বা জোর করে ধ্যান করতে গেলে তা পতন ঘটাতে পারে।