যদা হি নেন্দ্রিয়ার্থেষু ন কর্মস্বনুষজ্জতে ।
সর্বসঙ্কল্পসংন্যাসী যোগারূঢ়স্তদোচ্যতে ॥ ৬.৪ ॥
সরল ভাবার্থ:
যখন কোনো ব্যক্তি ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলোতে আসক্ত হন না এবং কর্মের ফলেও আবদ্ধ হন না, বরং সমস্ত সঙ্কল্প ত্যাগ করেছেন—তখনই তাঁকে 'যোগারূঢ়' বা যোগে প্রতিষ্ঠিত বলা হয়।
ধর্মীয় ব্যাখ্যা:
কে প্রকৃত যোগী? তাঁর পরীক্ষার মানদণ্ড কী? এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ সেই উত্তর দিয়েছেন।
১. অনাসক্তি: চোখ দেখছে, কান শুনছে—কিন্তু মন কোনো কিছুতেই লুব্ধ হচ্ছে না। সুন্দর দৃশ্য বা সুস্বাদু খাবার দেখেও যাঁর ভেতরের স্থিরতা নষ্ট হয় না, তিনিই জিতেন্দ্রিয়।
২. সর্বসংকল্পসংন্যাসী: এটি হলো সর্বোচ্চ মানসিক স্তর। এখানে মানুষ কেবল কাজের জন্য কাজ করেন না, বরং তাঁর মনে কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির সঙ্কল্প বা ইচ্ছা অবশিষ্ট থাকে না। তিনি ঈশ্বরের হাতের যন্ত্র হয়ে যান।
৩. যোগারূঢ়ের বৈশিষ্ট্য: এমন ব্যক্তি সুখে আনন্দিত হন না এবং দুঃখে মুষড়ে পড়েন না। তিনি জানেন জগত পরিবর্তনশীল, তাই তিনি অবিনাশী পরমাত্মাতেই স্থির থাকেন। এটিই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা।