॥ অধ্যায় ৭, শ্লোক ১০ ॥

বীজং মাং সর্বভূতানাং বিদ্ধি পার্থ সনাতনম্ ।
বুদ্ধির্বুদ্ধিমতামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্ ॥ ৭.১০ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পার্থ! জেনে রেখো আমিই সমস্ত প্রাণীর সনাতন (অবিনাশী) বীজ। বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি এবং তেজস্বীদের তেজও আমি।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

এই শ্লোকটি ঈশ্বরের আদি স্বরূপ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির উৎস সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটি আমাদের অস্তিত্বের মূলে নিয়ে যায়।

১. সনাতন বীজ: একটি বিশাল বটগাছ যেমন একটি ছোট্ট বীজের ভেতরে সুপ্ত থাকে, তেমনি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড কৃষ্ণের ভেতরে বীজরুপে থাকে। ‘সনাতন’ মানে হলো যার কোনো শুরু বা শেষ নেই। প্রতিটি সৃষ্টির মূলে যে আদি কারণ বা পোটেনশিয়াল থাকে, তা হলো শ্রীকৃষ্ণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সৃষ্টির কোনো বিনাশ নেই, কেবল রূপ পরিবর্তন হয়।

২. বুদ্ধি ও মেধা: আমাদের জগত চলে বুদ্ধির জোরে। কিন্তু সেই বুদ্ধির জন্ম কোথা থেকে? কৃষ্ণ বলছেন, ‘বুদ্ধির্বুদ্ধিমতামস্মি’—অর্থাৎ বুদ্ধিমানদের যে সূক্ষ্ম বিচারশক্তি, তা আমারই দান। বড় বড় বিজ্ঞানী বা দার্শনিকদের যে অনন্য মেধা, তা আসলে ঈশ্বরেরই এক বিশেষ প্রকাশ। এটি আমাদের নম্র হতে শেখায়। আমরা যেন আমাদের মেধা নিয়ে অহংকার না করি, বরং তাকে ঈশ্বরের কাজে লাগাই।

৩. তেজস্বীদের তেজ: একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রভাব বা তাঁর ভেতরের যে অপরাজেয় তেজ থাকে, তা কৃষ্ণের অংশ। এই তেজ দিয়ে মানুষ অন্যায় প্রতিরোধ করে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। এটি জানলে আমরা আমাদের ভেতরের আত্মশক্তিকে চিনতে পারি এবং সাহসের সাথে জীবন পরিচালনা করতে পারি।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত ঐক্যের কথা বলে। আমরা সবাই একই বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়েছি। আমাদের বুদ্ধি এবং তেজ ঈশ্বরেরই আমানত। এটি আমাদের দায়িত্বশীল হতে শেখায় যে আমাদের এই দিব্য সম্পদগুলো যেন আমরা কোনো খারাপ কাজে ব্যবহার না করি। এটি এক উন্নত ও আদর্শ জীবন গঠনের প্রেরণা।