॥ অধ্যায় ৭, শ্লোক ১৫ ॥

ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ ।
মায়য়াপহৃতজ্ঞানা আসুরং ভাবমাশ্রিতাঃ ॥ ৭.১৫ ॥

সরল ভাবার্থ:

যাঁদের জ্ঞান মায়ার দ্বারা অপহৃত হয়েছে, সেই সব পাপী, মূঢ়, নরাধম এবং আসুরিক ভাবাপন্ন ব্যক্তিরা আমার শরণাপন্ন হয় না।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

শ্রীকৃষ্ণ এখানে ব্যাখ্যা করছেন কেন সবাই ভগবানকে ডাকে না এবং কারা আধ্যাত্মিকতার শত্রু। এটি মানুষের চারিত্রিক অধঃপতনের এক বিশ্লেষণ।

১. মূঢ় ও নরাধম: মূঢ় হলো তারা যারা মনে করে যে ইন্দ্রিয় ভোগই জীবনের শেষ লক্ষ্য। আর নরাধম তারা যারা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভগবানের পথ বেছে নেয় না। এদের জ্ঞান মায়ার দ্বারা এমনভাবে ঢাকা থাকে যে তারা সত্যকে চিনতে পারে না। তারা মনে করে যে টাকা-পয়সা আর ক্ষমতাই সব। এই মানসিকতাই তাদের ঈশ্বর থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

২. মায়য়াপহৃতজ্ঞানা: এদের অনেক জাগতিক জ্ঞান থাকতে পারে, যেমন বড় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু তাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানটি ‘অপহৃত’ বা চুরি হয়ে গেছে মায়ার দ্বারা। তারা জগতকে বিশ্লেষণ করতে পারে কিন্তু জগতের স্রষ্টাকে অনুভব করতে পারে না। এটি আমাদের শেখায় যে কেবল বুদ্ধি দিয়ে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না, এর জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের পবিত্রতা।

৩. আসুরিক ভাব: আসুরিক ভাব মানে হলো নাস্তিকতা এবং অহংকার। যারা মনে করে তারা নিজেরাই সব এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, এমন ব্যক্তিরা কখনোই শান্তি বা মুক্তি পায় না কারণ তারা পরম করুণাময়কে অগ্রাহ্য করে। এটি আমাদের সতর্ক করে যেন আমরা আমাদের জীবনের প্রাপ্তি নিয়ে অহংকারী না হই এবং সবসময় ভগবানের প্রতি বিনত থাকি।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের নৈতিক চরিত্রের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে মনের কালিমা বা আসুরিক প্রবৃত্তি থাকলে ভগবানের কৃপা পাওয়া যায় না। এটি আমাদের আত্মশুদ্ধি করতে এবং মায়ার প্রলোভন থেকে বাঁচতে উৎসাহিত করে। প্রকৃত মনুষ্যত্ব হলো সেই অহংকার ত্যাগ করে পরমেশ্বরের শরণ নেওয়া।