॥ অধ্যায় ৭, শ্লোক ১৬ ॥

চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোঽর্জুন ।
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থার্থী জ্ঞানী চ ভরতষভ ॥ ৭.১৬ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে ভরতশ্রেষ্ঠ অর্জুন! চার প্রকার পুণ্যবান লোক আমার ভজনা করেন—আর্ত (বিপদগ্রস্ত), জিজ্ঞাসু (সত্য জানতে ইচ্ছুক), অর্থার্থী (জাগতিক সম্পদকামী) এবং জ্ঞানী।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

এই শ্লোকটি ভক্তদের বিভিন্ন ধরণ সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেয়। শ্রীকৃষ্ণ এখানে দেখিয়েছেন যে মানুষ কত ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর কাছে আসে।

১. আর্ত ও অর্থার্থী: যখন মানুষ বড় কোনো বিপদে পড়ে (যেমন অসুখ বা শোক), তখন সে ভগবানকে ডাকে—সে হলো ‘আর্ত’। আবার কেউ যখন ধন-সম্পদ বা সুখের জন্য প্রার্থনা করে, সে হলো ‘অর্থার্থী’। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন এদেরকেও আমি গ্রহণ করি কারণ এরা অন্তত জাগতিক শক্তির কাছে না গিয়ে আমার কাছে এসেছে। এটি আমাদের শেখায় যে যেকোনো কারণেই হোক না কেন, ভগবানকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন।

২. জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী: ‘জিজ্ঞাসু’ হলেন তিনি যিনি সত্যকে জানতে চান, যাঁর মনে অনেক প্রশ্ন। আর ‘জ্ঞানী’ হলেন তিনি যিনি তত্ত্বত জানেন যে ঈশ্বরই সবকিছুর আধার। জ্ঞানী ভক্তের কোনো দাবি থাকে না, তাঁর ভজনা কেবল ভালোবাসার জন্য। কৃষ্ণ এদের সবাইকে ‘সুকৃতিনো’ বা পুণ্যবান বলেছেন কারণ এরা অন্তত ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করে তাঁর পথে চলছে।

৩. ভক্তির স্তরবিন্যাস: যদিও চার ধরনের ভক্তই প্রিয়, কিন্তু তাদের মধ্যে একটি স্তরের পার্থক্য আছে। আর্ত ও অর্থার্থীর ভক্তি সकाम (ফল লাভের আশায়), আর জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানীর ভক্তি নিষ্কकाम (প্রেমের জন্য)। এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের জ্ঞান ও প্রেমের স্তরে পৌঁছাতে হবে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আশ্বস্ত করে যে আমাদের জীবনের যেকোনো অবস্থায় আমরা ভগবানকে ডাকতে পারি। তিনি আমাদের কোনো প্রয়োজনের প্রার্থনাকেও ঘৃণা করেন না। তবে এটি আমাদের ধীরে ধীরে উচ্চতর ভক্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার এক আমন্ত্রণ। এটি ঈশ্বর ও ভক্তের এক মধুর সম্পর্কের চিত্র।