বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন ।
ভবিষ্যানি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন ॥ ৭.২৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে অর্জুন! আমি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সমস্ত প্রাণী সম্পর্কে জানি। কিন্তু আমাকে প্রকৃত তত্ত্ব অনুসারে কেউই জানতে পারে না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:
এই শ্লোকটি শ্রীকৃষ্ণের সর্বজ্ঞাতা (Omniscience) হওয়ার এক অকাট্য প্রমাণ। তিনি কাল বা সময়ের ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থানের কথা এখানে ব্যক্ত করেছেন।
১. ত্রিকালদর্শী পরমেশ্বর: মানুষ বড়জোর বর্তমানের কিছু অংশ জানে এবং অতীতের স্মৃতি মনে রাখে। কিন্তু ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে অন্ধকার। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, তিনি কেবল আজকেই জানেন না, তিনি গত কোটি কোটি বছরের ইতিহাস এবং আগামী অনাগত সময়ের প্রতিটি ঘটনা জানেন। প্রতিটি প্রাণীর মনে কী চলছে, তাও তাঁর নখদর্পণে। এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের জীবনের কোনো কিছুই তাঁর অজানা নয়, তাই তাঁর ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. ঈশ্বরকে জানার সীমাবদ্ধতা: ‘মাং তু বেদ ন কশ্চন’—এটি এক অদ্ভুত কথা। ঈশ্বর আমাদের সবকিছু জানেন, কিন্তু আমরা তাঁকে জানতে পারি না। এর কারণ হলো ক্ষুদ্র বুদ্ধি দিয়ে অসীমকে মাপা যায় না। যেমন সমুদ্রের একটি মাছ কখনো বিশাল আকাশকে বুঝতে পারে না। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধ চেতনা দিয়ে পরমাত্মার রহস্য ভেদ করতে পারি না যদি না তিনি দয়া করে আমাদের জানান।
৩. পরম নিয়ন্ত্রণ: এই শ্লোকটি আমাদের এক গভীর নিরাপত্তা দান করে। যখন আমরা জানি যে ঈশ্বর আমাদের অতীত ও ভবিষ্যৎ জানেন, তখন আমাদের দুশ্চিন্তা কমে যায়। আমরা বুঝতে পারি যে আমরা এক সুরক্ষিত পরিকল্পনার অংশ। আমাদের কাজ হলো কেবল বর্তমান মুহূর্তে সঠিক কর্ম করা। বাকিটা ভগবানের চরণে সঁপে দেওয়া।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আত্মসমর্পণের ভিত্তি। এটি আমাদের শেখায় যে আমরা কার আশ্রয়ে আছি। যিনি মহাকালের অতীত, তাঁর কাছে আমাদের জীবনের সব সমস্যা অত্যন্ত তুচ্ছ। এটি আমাদের মনে অটল শান্তি এবং বিশ্বাসের জন্ম দেয়। আমরা বুঝতে পারি যে জগতের সবকিছুর শেষ গন্তব্য তিনিই।