জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে ।
তে ব্রহ্ম তদ্বিদুঃ কৃৎস্নমঅধ্যাত্মং কর্ম চাখিলম্ ॥ ৭.২৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
যাঁরা জরা (বার্ধক্য) ও মরণ থেকে মুক্তির জন্য আমার আশ্রয় নিয়ে চেষ্টা করেন, তাঁরা সেই ব্রহ্ম, সম্পূর্ণ অধ্যাত্মতত্ত্ব এবং নিখিল কর্ম সম্পর্কে অবগত হন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা:
এই শ্লোকটি ভক্তির এক বিশাল প্যাকেজের কথা বলে। কৃষ্ণকে আশ্রয় করলে মানুষ একসাথেই তিনটি বড় জ্ঞান লাভ করে।
১. জরা-মরণ থেকে মুক্তি: মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় হলো বার্ধক্য ও মৃত্যু। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যারা তাঁর আশ্রয় নেন, তাঁরা এই ভয়ের অতীত হয়ে যান। কারণ তাঁরা জানেন যে শরীর মরলেও আত্মা মরে না। এই অভয় বাণী আমাদের মনে অসীম সাহস যোগায়। মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে যারা সাধনা করেন, তাদের পথ স্বয়ং ভগবান প্রশস্ত করে দেন।
২. ত্রিমাত্রিক জ্ঞান: কৃষ্ণের ভক্ত হলে কেবল ভক্তি নয়, তিনটি গুহ্য জ্ঞান পাওয়া যায়—(ক) ব্রহ্ম: পরম সত্যের স্বরূপ। (খ) অধ্যাত্ম: নিজের আত্মার রহস্য। (গ) কর্ম: জীবনের প্রতিটি কাজের নিগূঢ় নিয়ম। অর্থাৎ একজন ভক্ত একই সাথে বড় বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও কর্মী হয়ে ওঠেন। তাঁর কাছে জগতের কোনো রহস্যই আর অজানা থাকে না।
৩. মামাশ্রিত্য বা শরণাগতি: এখানে আবার ‘আশ্রয়’ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিজের বুদ্ধিতে এই জটিল তত্ত্বগুলো বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু যখন আমরা কৃষ্ণের শরণ নিই, তখন তিনি দয়া করে আমাদের বুদ্ধিকে আলোকিত করেন। এটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা কোনো ল্যাবরেটরি টেস্ট নয়, এটি হলো এক পরম শক্তির সাথে একাত্ম হওয়া।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের পরম লক্ষ্যের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এটি আমাদের শেখায় যে ছোটখাটো সুখের পেছনে না দৌড়ে চিরন্তন মুক্তির জন্য চেষ্টা করা উচিত। যখন আমরা বড় লক্ষ্য ধরি, তখন জগতের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমাদের আর ভাবায় না। শ্রীকৃষ্ণের এই আশ্বাস আমাদের পূর্ণতার পথ দেখায়।