॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ১ ॥

শ্রীভগবানুবাচ ।
ইদং তু তে গুহ্যতমং প্রবক্ষ্যাম্যনসূয়বে ।
জ্ঞানং বিজ্ঞানসহিতং যজ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেঽশুভাৎ ॥ ৯.১ ॥

সরল ভাবার্থ:

শ্রীভগবান বললেন—হে অর্জুন! তুমি দোষদৃষ্টিহীন (অসূয়াহীন), তাই তোমাকে আমি এই পরম গোপনীয় ও বিজ্ঞাসম্মত তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করছি, যা জানলে তুমি জগতের সমস্ত অশুভ বা সংসার-বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করবে।

১. গুহ্যতম জ্ঞান: কৃষ্ণ এখানে জ্ঞানকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন—গুহ্য (গোপন), গুহ্যতর (আরও গোপন) এবং গুহ্যতম (পরম গোপন)। এই অধ্যায়ে তিনি তাঁর নিজের স্বরূপের সেই চরম সত্য বলবেন যা সহজে কাউকে বলা হয় না।

২. অনসূয়বে বা দোষহীনতা: অর্জুনের মনে কৃষ্ণের প্রতি কোনো সন্দেহ বা হিংসা নেই। জ্ঞান পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো গুরুর প্রতি বিনম্র ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া। অর্জুন সেই যোগ্যতার অধিকারী।

৩. জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সমন্বয়: কেবল থিওরি নয়, হাতে-কলমে অনুভবের (বিজ্ঞান) কথাও কৃষ্ণ এখানে বলবেন। এটি কেবল তথ্য নয়, এটি জীবনের আমূল পরিবর্তনের এক বিদ্যা।

নবম অধ্যায়ের শুরুতে কৃষ্ণ যে 'অশুভ' থেকে মুক্তির কথা বলেছেন, তা হলো এই জন্ম-মৃত্যুর যন্ত্রণাদায়ক জগত। এই জগতকে 'অশুভ' বলা হয়েছে কারণ এখানে সবকিছুই নশ্বর। এই জ্ঞানটি হলো সেই চাবিকাঠি যা আমাদের এই জেলের দরজা খুলে দেয়।

মানুষের মনে যখন অসূয়া বা পরশ্রীকাতরতা থাকে, তখন পরম সত্য সেখানে প্রতিফলিত হয় না। অর্জুনের সরলতা কৃষ্ণের হৃদয় জয় করেছে। কৃষ্ণ বোঝাচ্ছেন যে, যারা ভগবানকে চ্যালেঞ্জ করতে চায় তারা কেবল তর্ক পায়, কিন্তু যারা তাঁকে ভালোবাসে তারা সত্যকে পায়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি একটি পরম আশার বাণী। আমরা আমাদের জীবনের নানা সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যদি তুমি এই গুহ্য জ্ঞানটি হৃদয়ে ধারণ করতে পারো, তবে কোনো জাগতিক সমস্যা তোমাকে আর বিচলিত করতে পারবে না। এটি এক অদৃশ্য বর্মের মতো কাজ করে।