রাজবিদ্যা রাজগুহ্যং পবিত্রমিদমুত্তমম্ ।
প্রত্যক্ষাবগমং ধর্ম্যং সুসুখং কর্তুমব্যয়ম্ ॥ ৯.২ ॥
সরল ভাবার্থ:
এই জ্ঞান হলো সমস্ত বিদ্যার রাজা, সমস্ত গোপনীয় বিষয়ের শ্রেষ্ঠ এবং পরম পবিত্র। এটি প্রত্যক্ষ অনুভবের বিষয়, ধর্মসম্মত, পালন করতে খুব সহজ এবং এর ফল কখনো বিনাশ হয় না।
১. রাজবিদ্যা ও রাজগুহ্য: বিদ্যা মানে জ্ঞান। যে জ্ঞান অর্জন করলে অন্য সব জ্ঞান তুচ্ছ হয়ে যায়, তাই রাজবিদ্যা। আর এটি রাজার মতো মহান হৃদয়ের ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত বলে একে রাজগুহ্য বলা হয়।
২. সুসুখং কর্তুম্: অন্যান্য যোগ বা তপস্যা খুব কঠিন হতে পারে, কিন্তু ভক্তিযোগ বা এই গুহ্য জ্ঞান পালন করা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও সহজ। এটি কোনো কষ্টের বোঝা নয়, বরং আনন্দের উৎসব।
৩. প্রত্যক্ষাবগমম্: এটি কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। সাধনা করলে এর ফল সাথে সাথেই অনুভব করা যায়। মনের শান্তি এবং ঈশ্বরীয় সান্নিধ্য এখানে নিজের ভেতরেই প্রত্যক্ষ হয়।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে এই জ্ঞানের মার্কেটিং করছেন না, বরং এর গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন। জগতের সব বিদ্যা আমাদের পেট চালাতে শেখায়, কিন্তু রাজবিদ্যা আমাদের জীবন চালাতে শেখায়। এটি আত্মাকে আলোকিত করে।
কেন একে পবিত্র বলা হয়েছে? কারণ গঙ্গার জল যেমন শরীর শুদ্ধ করে, এই জ্ঞান তেমনি মনের সব কলুষতা, কাম ও ক্রোধ ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। আর এই জ্ঞান হলো 'অব্যয়', অর্থাৎ একবার শিখলে তা পরজন্মের সাথী হয়ে থাকে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের ধর্মচর্চাকে আনন্দদায়ক করতে শেখায়। অনেকে ধর্মকে ভয় বা যন্ত্রণার বিষয় মনে করেন। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন এটি 'সুসুখং', অর্থাৎ যা করতে মন খুশি থাকে। যখন আমরা ভালোবেসে কৃষ্ণকে ডাকি, তখন কোনো শ্রম আর শ্রম মনে হয় না।