অশ্রদ্দধানাঃ পুরুষা ধর্মস্যাস্য পরন্তপ ।
অপ্রাপ্য মাং নিবর্তন্তে মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি ॥ ৯.৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে পরন্তপ! যারা এই ধর্মপথের ওপর শ্রদ্ধা পোষণ করে না, তারা আমাকে লাভ করতে পারে না। ফলে তারা এই মৃত্যু ও পুনর্জন্মের পথে ঘুরে বেড়াতে থাকে।
১. অশ্রদ্ধা: শ্রদ্ধা মানে হলো বিশ্বাসের সাথে কাজ করা। যার মনে বিশ্বাস নেই, সে পথের ধারে পড়ে থাকে। অবিশ্বাস মানুষকে আধ্যাত্মিক উন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।
২. মৃত্যুসংসারবর্ত্মনি: জগতকে এখানে একটি রাস্তা বা 'বর্ত্ম' বলা হয়েছে যা কেবল মৃত্যু আর পুনর্জন্মের দিকে নিয়ে যায়। যারা সত্যকে অস্বীকার করে, তারা এই গোলকধাঁধায় আটকে থাকে।
৩. পরন্তপ সম্বোধন: শত্রুদমনকারী অর্জুনকে কৃষ্ণ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে বাইরের শত্রুর চেয়ে মনের অবিশ্বাস নামক শত্রুকে জয় করা বেশি জরুরি।
এই শ্লোকটি একটি সতর্কবাণী। ঈশ্বর সবসময় আমাদের ডাকছেন, কিন্তু আমাদের 'অশ্রদ্ধা' আমাদের কান বন্ধ করে রাখে। এটি যেমন একজন রোগী যদি ওষুধের ওপর বিশ্বাস না করে তা না খায়, তবে ডাক্তার তাকে বাঁচাতে পারেন না।
ধর্মের পথে পা দেওয়ার জন্য বড় পাণ্ডিত্য দরকার নেই, দরকার কেবল একটু শ্রদ্ধা। যারা কেবল যুক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে বুঝতে চায়, তারা গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায়। আর যারা হৃদয়ে শ্রদ্ধা রাখে, তাদের জন্য কৃষ্ণ নিজে পথ হয়ে আসেন।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সজাগ করে। আমরা যেন কেবল খেয়ে-দেয়ে আর সন্তান পালন করে মৃত্যুতে লীন না হয়ে যাই। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে সত্যকে অস্বীকার করা মানে হলো নিজের অমূল্য জীবনকে ব্যর্থ করে দেওয়া।