ময় ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা ।
মৎস্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ ॥ ৯.৪ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমার অব্যক্ত স্বরূপ দ্বারা এই সমগ্র জগত পরিব্যাপ্ত। সমস্ত প্রাণী আমাতেই অবস্থিত, কিন্তু আমি তাদের মধ্যে অবস্থিত নই (অর্থাৎ আমি তাদের ওপর নির্ভরশীল নই)।
১. অব্যক্তমূর্তি: ভগবান জগতের সর্বত্র আছেন, কিন্তু আমরা তাঁকে দেখতে পাই না। এটি যেমন চিনির স্বাদ জলের প্রতিটি ফোঁটায় থাকে, কিন্তু চিনিকে আলাদা দেখা যায় না।
২. মৎস্থানি সর্বভূতানি: আকাশের নিচে যেমন মেঘ থাকে, তেমনি ঈশ্বরের মাঝে এই জগত ভাসছে। তিনি সবার আশ্রয়।
৩. নির্লিপ্ত পরমেশ্বর: যদিও সব কৃষ্ণে অবস্থিত, কিন্তু কৃষ্ণ জগত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন। তিনি জগতের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে এক স্বতন্ত্র সত্তা।
এখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর এক অলৌকিক রহস্যের কথা বললেন। তিনি বলছেন—সবকিছু আমাতে আছে, কিন্তু আমি সেই সব বস্তুর ভেতরে নেই। এর মানে হলো, জগত তাঁরই প্রকাশ কিন্তু তিনি জগতের চেয়েও বড়। যেমন একটি স্বপ্নে আপনি অনেক কিছু দেখেন, স্বপ্নটি আপনার মাথায় থাকে, কিন্তু আপনি নিজে ওই স্বপ্নের অংশ হয়ে সীমাবদ্ধ হন না।
এটি আমাদের দ্বৈত ও অদ্বৈতবাদের এক চমৎকার মিল দেখায়। ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন আবার তিনি আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এই উপলব্ধি আমাদের মনে ঈশ্বরের প্রতি বিস্ময় ও ভক্তি বাড়ায়।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের শেখায় যে বিপদে পড়লে আমরা কোথায় আশ্রয় খুঁজব। যেহেতু সব প্রাণী তাঁর ভেতরেই আছে, তাই তাঁর শরণ নিলে পুরো জগতের সুরক্ষাই পাওয়া সম্ভব। এটি এক অমোঘ নিরাপত্তার অনুভূতি।