ন চ মৎস্থানি ভূতানি পশ্য মে যোগমৈশ্বরম্ ।
ভূতভৃন্ন চ ভূতস্থো মমাত্মা ভূতভাবনঃ ॥ ৯.৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
আবার দেখো, সমস্ত প্রাণীও আমাতে অবস্থিত নয়। আমার এই ঐশ্বরিক যোগ বিভূতি দেখো! আমি সমস্ত প্রাণীর ধারক ও পালক হয়েও তাদের মধ্যে লিপ্ত নই। আমার আত্মাই হলো সৃষ্টির মূল কারণ।
১. ঐশ্বরিক বৈপরীত্য: আগের শ্লোকে বললেন সব আমাতে আছে, এখানে বলছেন কিছুই আমাতে নেই। এটি হলো তাঁর 'যোগমৈশ্বরম্' বা অলৌকিক শক্তি যা মানুষের লজিক দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়।
২. ভূতভৃৎ ও ভূতভাবন: তিনি সবার পিতা এবং ভরণপোষণকারী। কিন্তু তিনি এই সব কাজের জন্য কারো কাছে দায়বদ্ধ নন।
৩. অস্পর্শিত পরমেশ্বর: জগত তাঁর থেকে আসে, তাঁর দ্বারা চলে, কিন্তু তিনি সূর্যের আলোর মতো চিরপবিত্র ও অস্পর্শিত থাকেন।
এই শ্লোকটি আমাদের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। কৃষ্ণ কেন এমন উল্টো কথা বলছেন? এর মানে হলো, আমরা যদি মায়ার চোখে দেখি তবে মনে হবে তিনি জগতের সাথে মিশে আছেন। কিন্তু যদি তত্ত্বজ্ঞানে দেখি, তবে তিনি চিরকালই শুদ্ধ এবং স্বতন্ত্র।
সাগর থেকে যেমন ঢেউ আসে, ঢেউ সাগরেরই অংশ, কিন্তু সাগর ঢেউয়ের ওপর নির্ভর করে না। শ্রীকৃষ্ণ এখানে তাঁর 'অচিন্ত্য ভেদাভেদ' তত্ত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তিনি আমাদের প্রতিটি কর্মের সাথে যুক্ত হয়েও কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্ত।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বরকে আমাদের ছোট বুদ্ধিতে বেঁধে রাখা যাবে না। তাঁর শক্তি অসীম এবং রহস্যময়। তাঁর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখলে এই মায়ার জগতকেও আমরা খেলনার মতো তুচ্ছ মনে করতে পারি।