॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৬ ॥

যথাকাশস্থিতো নিত্যং বায়ুঃ সর্বত্রগো মহান্ ।
তথা সর্বাণি ভূতানি মৎস্থানীত্যুপধারয় ॥ ৯.৬ ॥

সরল ভাবার্থ:

যেমন সর্বত্র বিচরণশীল মহাবায়ু সর্বদা আকাশেই অবস্থান করে, তেমনি সমস্ত প্রাণী আমাতেই অবস্থিত—এ কথা জানবে।

১. আকাশ ও বায়ুর উদাহরণ: আকাশ হলো অচল ও স্থির, আর বায়ু হলো চঞ্চল। বায়ু যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সে আকাশের বাইরে যেতে পারে না। তেমনি আমরা যতই ক্ষমতাশালী হই না কেন, আমরা কৃষ্ণের শক্তির ভেতরেই বাস করি।

২. আশ্রয় ও আধার: আকাশ বায়ুকে জায়গা দেয় কিন্তু বায়ুর গন্ধ বা ধুলোর দ্বারা আকাশ ময়লা হয় না। ঈশ্বরও তেমনি আমাদের আশ্রয় দেন কিন্তু আমাদের পাপ-পুণ্যে লিপ্ত হন না।

৩. সর্বত্রগো মহান্: প্রাণের স্পন্দন যেমন বায়ু ছাড়া সম্ভব নয়, ঈশ্বরের শক্তি ছাড়া জগতের কোনো গতি নেই।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে একটি বৈজ্ঞানিক উপমার মাধ্যমে তাঁর ও আমাদের সম্পর্ক পরিষ্কার করলেন। আমরা তাঁর ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু তিনি আমাদের থেকে মুক্ত। এই উপলব্ধি আমাদের অহংকার চূর্ণ করে দেয়। আমরা ভাবি আমরা জগত চালাচ্ছি, কিন্তু আমরা তো সেই 'বায়ুর' মতো যারা কৃষ্ণের 'আকাশে' ভেসে বেড়াচ্ছে মাত্র।

এই শ্লোকটি আমাদের কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। আমরা প্রতিটি নিঃশ্বাসে তাঁর শক্তি ব্যবহার করছি। তাঁর আকাশেই আমরা শ্বাস নিচ্ছি। এই কৃতজ্ঞতা বোধই ভক্তির প্রথম ধাপ।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের এক গভীর শান্তি দেয়। যদি আমরা সবসময় ঈশ্বরের আশ্রয়েই থাকি, তবে বিপদের ভয় কোথায়? তুফান বা ঝড় আসলেও তা যেমন আকাশকে ছিঁড়তে পারে না, জগতের কোনো বিপদও আমাদের আত্মাকে নষ্ট করতে পারবে না যদি আমরা ঈশ্বরে স্থির থাকি।