॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৭ ॥

সর্বভূতানি কৌন্তেয় প্রকৃতিং যান্তি মামিকাম্ ।
কল্পক্ষয়ে পুনস্তানি কল্পাদৌ বিসৃজাম্যহম্ ॥ ৯.৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে কৌন্তেয়! কল্পের শেষে (প্রলয় কালে) সমস্ত প্রাণী আমার প্রকৃতিতে লীন হয় এবং পুনরায় কল্পের শুরুতে আমি তাদের সৃষ্টি করি।

১. কল্পক্ষয় ও প্রলয়: জগত চিরস্থায়ী নয়। ব্রহ্মার দিনের শেষে যখন প্রলয় আসে, তখন সব শরীর ও মন বীজ অবস্থায় ঈশ্বরের প্রকৃতিতে ফিরে যায়। এটি যেন গভীর ঘুম।

২. পুনঃ সৃষ্টি: আবার যখন নতুন কল্প শুরু হয়, ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছায় সেই বীজগুলোকে আবার অঙ্কুরিত করে জগত সৃষ্টি করেন। এটি সৃষ্টির এক শাশ্বত চক্র।

৩. বিসৃজাম্যহম্: সৃষ্টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি ভগবানের এক সঙ্কল্পিত পরিকল্পনা।

এই শ্লোকটি আধুনিক বিজ্ঞানের 'অসিল্যাটিং ইউনিভার্স' থিওরির মতো। জগত সংকুচিত হয় এবং আবার প্রসারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে তিনি এই মহাজাগতিক ক্যাসেটটির 'প্লে' এবং 'রিওয়াইন্ড' বাটন টিপছেন।

মানুষ কেন বারবার জন্মায়? কারণ তাদের সংস্কার এবং অপূর্ণ বাসনাগুলো প্রকৃতির মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। প্রলয়কালেও সেই ইচ্ছাগুলো শেষ হয় না, তাই নতুন সৃষ্টিতে তাদের আবার শরীর নিতে হয়। এটি এক বিরতিহীন যাত্রা যতক্ষণ না মুক্তি পাওয়া যায়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের মৃত্যুর ভয় কাটাতে সাহায্য করে। মৃত্যু মানে বিনাশ নয়, এটি কেবল বিরতি। প্রলয়কালেও আমরা ভগবানেরই আঁচলের তলে বিশ্রাম করি। এই মহাজাগতিক ছন্দ বুঝতে পারলে মানুষের মনে শোকের কোনো স্থান থাকে না।