প্রকৃতিং স্বামবষ্টভ্য বিসৃজামি পুনঃ পুনঃ ।
ভূতগ্রামমিমং কৃৎস্নমবশং প্রকৃতের্বশাৎ ॥ ৯.৮ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমি আমার প্রকৃতিকে অবলম্বন করে, প্রকৃতির গুণের বশবর্তী এবং পরতন্ত্র এই প্রাণীসমূহকে বারবার তাদের পূর্বের কর্ম অনুযায়ী সৃষ্টি করি।
১. প্রকৃতির বশ: জীবরা মায়ার অধীনে অত্যন্ত দুর্বল বা 'অবশ'। আমরা নিজেদের খুব স্বাধীন ভাবলেও আমরা আমাদের স্বভাব, অভ্যাস ও পরিবেশের হাতে বন্দী।
২. বারবার সৃষ্টি: আমাদের করা কর্ম আমাদের বারবার এই জগতে নিয়ে আসে। ঈশ্বর কেবল আমাদের সেই সুযোগটি করে দেন।
৩. অবষ্টভ্য বা নিয়ন্ত্রণ: প্রকৃতি ভগবানের নির্দেশে চলে। তিনি চালক, আর প্রকৃতি হলো একটি উন্নতমানের কম্পিউটার যা জীবের কর্মফল প্রসেস করে।
কৃষ্ণ এখানে এক করুণ সত্যের কথা বললেন—'অবশ'। আমরা চাইলেই কি আমাদের রাগ, লোভ বা মৃত্যু থামাতে পারি? পারি না, কারণ আমরা প্রকৃতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছি। এই সত্যটি জানলে আমাদের মধ্যে এক প্রকারের বৈরাগ্য আসে।
ঈশ্বর নিষ্ঠুর নন, তিনি কেবল আমাদের কর্মের বীজকে মাটি ও জল দিয়ে বড় হওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন। আমরা যা বুনেছি, আমরা তাই কাটছি। তিনি শুধু এই সিস্টেমটি পরিচালনা করছেন। এই শ্লোকটি আমাদের নিজেদের কর্মের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি মুক্তির তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। যদি আমরা সত্যিই 'অবশ' অবস্থা থেকে মুক্ত হতে চাই, তবে আমাদের প্রকৃতির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। আর প্রকৃতির ঊর্ধ্বে ওঠার একমাত্র রাস্তা হলো প্রকৃতির মালিক শ্রীকৃষ্ণের চরণে আশ্রয় নেওয়া।