॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৯ ॥

ন চ মাং তানি কর্মাণি নিবন্ধন্তি ধনঞ্জয় ।
উদাসীনবদাসীনমসক্তং তেষু কর্মসু ॥ ৯.৯ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে ধনঞ্জয়! এই সমস্ত সৃষ্টি ও সংহারের কাজ আমাকে আবদ্ধ করতে পারে না, কারণ আমি এই সব কর্মে আসক্তিশূন্য হয়ে উদাসীনের মতো অবস্থান করি।

১. উদাসীনতা: এর মানে এই নয় যে ঈশ্বর আমাদের কেয়ার করেন না। এর মানে হলো তিনি ফলাফলের ওপর নির্ভর করেন না। তিনি পূর্ণকাম। তাঁর কিছু পাওয়ার বা হারানোর নেই।

২. আসক্তিশূন্যতা: আমরা সামান্য কিছু করলেই তাতে মজে যাই। কিন্তু কৃষ্ণ এত বড় জগত সৃষ্টি করেও তাতে জড়িয়ে যান না। তিনি সবসময় স্থির ও নির্লিপ্ত।

৩. নিবন্ধন্তি বা বন্ধনহীন: ঈশ্বর কর্মের স্রষ্টা হয়েও কর্মফল থেকে মুক্ত। এটিই তাঁর ঈশ্বরত্বের প্রমাণ।

একজন বিচারক যেমন কোর্টে কাউকে সাজা দেন বা কাউকে খালাস করেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কারো ওপর রাগ বা অনুরাগ রাখেন না—কৃষ্ণও তেমনি। তিনি কেবল ধর্মের নিয়ম পালন করেন। এই 'উদাসীন' ভাবটি আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা।

আমরা আমাদের কাজে কেন দুঃখ পাই? কারণ আমরা তাতে জড়িয়ে যাই। যদি আমরাও ভগবানের মতো 'উদাসীন' বা নিরাসক্ত হয়ে আমাদের কর্তব্য করি, তবে পৃথিবীর কোনো দুঃখ আমাদের ছুঁতে পারবে না। এটিই হলো কর্মযোগের সারকথা।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের শেখায় যে ঈশ্বর পক্ষপাতদুষ্ট নন। কেউ কষ্টে থাকলে সে যেন ঈশ্বরকে দোষ না দেয়, কারণ ঈশ্বর ফলের বিচারকর্তা মাত্র, ফলের সৃষ্টিকর্তা নন। এই জ্ঞান আমাদের শান্ত থাকতে এবং নিজের ভুলগুলো সংশোধন করতে অনুপ্রাণিত করে।