॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ১০ ॥

ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূয়তে সচরাচরম্ ।
হেতুনা নেন কৌন্তেয় জগদ্বিপরিবর্ততে ॥ ৯.১০ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে কৌন্তেয়! আমারই অধ্যক্ষতায় (তত্ত্বাবধানে) এই জড় প্রকৃতি স্থাবর ও জঙ্গমসহ সমগ্র জগত সৃষ্টি করে। এই কারণেই জগত বারবার পরিবর্তিত হয়।

১. অধ্যক্ষতা বা Supervision: প্রকৃতি একা কিছু করতে পারে না। যেমন একটি মেশিন চালানোর জন্য একজন অপারেটর লাগে, তেমনি জগতরূপী মেশিনটি কৃষ্ণের তত্ত্বাবধানে চলে।

২. জগদ্বিপরিবর্ততে: পরিবর্তনের এই লীলাটি শ্রীকৃষ্ণের চোখের সামনেই ঘটছে। জগত মানেই পরিবর্তন। আজ যা আছে কাল তা থাকবে না।

৩. হেতু বা কারণ: শ্রীকৃষ্ণই এই আদি কারণ যার উপস্থিতিতে মায়া বা প্রকৃতি কাজ করতে শুরু করে। তাঁর সঙ্কল্পই হলো সৃষ্টির প্রাণশক্তি।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিজেকে চিফ একজিকিউটিভ অফিসার (CEO) হিসেবে তুলে ধরলেন। তিনি কাজগুলো নিজে করছেন না, কিন্তু তাঁর নির্দেশেই সব হচ্ছে। প্রকৃতি হলো তাঁর সহকারী। এই শ্লোকটি জড়বাদীদের (Materialists) ভুল ভেঙে দেয় যারা মনে করে জগত এমনি এমনি সৃষ্টি হয়েছে।

সূর্যের উপস্থিতিতে যেমন ফুল ফোটে, সূর্যের কোনো কষ্ট হয় না বা সূর্যকে নিজে হাত দিতে হয় না—কৃষ্ণও তেমনি জগত পরিচালনা করেন। এই সহজ ও সাবলীল পরিচালনা আমাদের শেখায় যে ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়া মানে হলো সব শক্তির সাথে যুক্ত হওয়া।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের জীবনে এক বড় অবলম্বন। যখন আমরা জানি যে পুরো প্রকৃতির মালিক শ্রীকৃষ্ণ নিজে এবং তিনি সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখছেন, তখন আমাদের মনের সব ভয় ও শঙ্কা দূর হয়ে যায়। আমরা বুঝতে পারি যে কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বাইরে ঘটছে না। এটিই হলো চরম আত্মবিশ্বাস ও শান্তির গোপন রহস্য।