॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ১১ ॥

অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম্ ।
পরং ভাবমজানন্তো মম ভূত মহেশ্বরম্ ॥ ৯.১১ ॥

সরল ভাবার্থ:

মূঢ় ব্যক্তিরা আমার পরম ভাব অর্থাৎ আমি যে সমস্ত প্রাণীর মহেশ্বর (পরম প্রভু)—তা না জেনে, আমাকে সাধারণ মানুষের শরীরধারী মনে করে অবজ্ঞা করে।

১. মানুষীং তনুম্: শ্রীকৃষ্ণ যখন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, তিনি আমাদের মতো দেখতে মানুষের শরীর ধারণ করেন। এটি তাঁর কৃপা। কিন্তু মূঢ় ব্যক্তিরা মনে করে তিনি আমাদের মতোই একজন সাধারণ মরণশীল মানুষ।

২. মূঢ় বা অজ্ঞানী: যারা কেবল বাইরের আবরণ দেখে বিচার করে, তারাই মূঢ়। তারা কৃষ্ণের অলৌকিক শক্তি ও দিব্য গুণাবলি বুঝতে অক্ষম।

৩. ভূত মহেশ্বরম্: কৃষ্ণ এখানে তাঁর আসল পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি সমস্ত চরাচরের অধিপতি। তাঁর শরীর চিন্ময়, রক্ত-মাংসের নয়।

এই শ্লোকটি অবতার তত্ত্বের এক বড় রহস্য। ঈশ্বর কেন মানুষের মতো আসেন? যাতে আমরা তাঁকে ভালোবাসতে পারি, তাঁর সাথে সখ্যতা করতে পারি। কিন্তু এই সুযোগটি নিতে গিয়ে অনেকে তাঁকে সাধারণ ভেবে ভুল করে। যেমন ধৃতরাষ্ট্র বা শিশুপাল তাঁকে কেবল যাদব বংশের একজন মনে করেছিল, কিন্তু বিদুর বা অর্জুন তাঁকে ঈশ্বর হিসেবে চিনেছিলেন।

পরম ভাব মানে হলো তাঁর সেই স্বরূপ যা সময় ও জগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যখন কৃষ্ণকে কেবল একজন ঐতিহাসিক চরিত্র বা মহাপুরুষ হিসেবে দেখি, তখন আমরা এই 'গুহ্যতম' জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হই। তাঁকে ভগবান হিসেবে জানলেই জীবনের মোক্ষ লাভ সম্ভব।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের শেখায় যে সত্য সবসময় চোখের সামনে থাকে না। হীরা যেমন কয়লার খনিতে থাকে, ঈশ্বরও তেমনি সাধারণ মানুষের বেশে এসে আমাদের পরীক্ষা নেন। আমাদের উচিত ভক্তির চশমা দিয়ে তাঁর দিব্য রূপকে চেনা। এই শ্লোকটি আমাদের শ্রদ্ধা এবং বিচারবুদ্ধিকে উন্নত করতে প্রেরণা দেয়।