মোঘাশা মোঘকর্মাণো মোঘজ্ঞানা বিচেতসঃ ।
রাক্ষসীমাসুরীং চৈব প্রকৃতিং মোহিনীং শ্রিতাঃ ॥ ৯.১২ ॥
সরল ভাবার্থ:
সেইসব বিচারবুদ্ধিহীন মানুষ রাক্ষসী ও আসুরী মায়াচ্ছন্ন প্রকৃতির আশ্রয় নেয়; ফলে তাদের সমস্ত আশা ব্যর্থ হয়, সমস্ত কর্ম পণ্ড হয় এবং তাদের সমস্ত জ্ঞান নিষ্ফল হয়ে যায়।
১. মোঘাশা ও মোঘকর্মাণো: মোঘ মানে বৃথা। যারা ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করে, তারা জগতের পেছনে ছুটে যা-ই আশা করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। তাদের বড় বড় পরিকল্পনা মৃত্যুর সময় কোনো কাজে আসে না।
২. রাক্ষসী ও আসুরী প্রকৃতি: আসুরী স্বভাব মানে হলো অত্যন্ত অহংকারী, নাস্তিক এবং ভোগবাদী চিন্তা। যারা মনে করে শরীরই সব এবং অন্যের ক্ষতি করে নিজের সুখ খোঁজে, তারাই এই প্রকৃতির শিকার।
৩. বিচেতসঃ বা বিভ্রান্ত: এদের বুদ্ধি মায়ার দ্বারা চুরি হয়ে গেছে। তারা সত্যকে মিথ্যে আর মিথ্যেকে সত্য মনে করে।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে নাস্তিকতা এবং আসুরী ভাবের পরিণাম বর্ণনা করেছেন। মানুষ ভাবে সে অনেক জ্ঞান (মোঘজ্ঞানা) অর্জন করেছে, কিন্তু সেই জ্ঞান যদি আত্মাকে শান্তি না দেয়, তবে তা বোঝা ছাড়া আর কিছু নয়। আসুরিক মানসিকতা মানুষকে সাময়িক ক্ষমতা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনাশের দিকে নিয়ে যায়।
মোহিনী প্রকৃতি মানে হলো যা আমাদের ভুল পথে প্রলুব্ধ করে। টাকা, নাম-যশ বা ক্ষমতার মোহ যখন আমাদের অন্ধ করে দেয়, তখন আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব ভুলে যাই। কৃষ্ণ বলছেন, এমন মানুষের জীবন এক চরম বিড়ম্বনা।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের নিজেদের স্বভাব পরীক্ষা করতে শেখায়। আমরা কি দেবগুণের অধিকারী নাকি আসুরিক গুণের? যদি আমরা কেবল নিজের স্বার্থ দেখি, তবে আমরাও এই ব্যর্থতার পথে হাঁটছি। এই শ্লোকটি আমাদের অহংকার ত্যাগ করে দৈব গুণের দিকে ফিরে আসার এক প্রবল সতর্কবাণী।