॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ১৩ ॥

মহাত্মানস্তু মাং পার্থ দৈবীং প্রকৃতিমাশ্রিতাঃ ।
ভজন্ত্যনন্যমনসো জ্ঞাত্বা ভূতাদিমব্যয়ম্ ॥ ৯.১৩ ॥

সরল ভাবার্থ:

কিন্তু হে পার্থ! মহাত্মাগণ দৈবী প্রকৃতি বা দৈব শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করে আমাকে সমস্ত প্রাণীর আদি ও অবিনাশী কারণ হিসেবে জেনে অনন্যচিত্তে ভজনা করেন।

১. মহাত্মা: মহাত্মা তাঁরাই যাঁদের হৃদয় বিশাল এবং যাঁরা মায়ার ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে চিনেছেন। তাঁরা আসুরিক ভাব ত্যাগ করে দৈব গুণের আশ্রয় নেন।

২. দৈবী প্রকৃতি: এটি হলো ভক্তি, করুণা, সত্য এবং ত্যাগের শক্তি। এই শক্তির প্রভাবেই মানুষ ঈশ্বরের প্রতি টান অনুভব করে।

৩. অনন্যমনসো: তাঁদের মন অন্য কোথাও যায় না। তাঁরা জানেন যে কৃষ্ণই সবকিছুর উৎস। এই একনিষ্ঠতাই তাঁদের সাধারণ মানুষ থেকে মহাত্মায় পরিণত করে।

পূর্বের শ্লোকে মূঢ়দের কথা বলার পর কৃষ্ণ এখানে তাঁর প্রিয় মহাত্মাদের কথা বলছেন। মহাত্মা হওয়ার জন্য জটা রাখা বা গেরুয়া পরা জরুরি নয়, দরকার হলো মনের 'অনন্যতা'। যখন আমাদের মন কেবল কৃষ্ণের খুশির জন্য কাজ করে, তখনই আমরা দৈবী প্রকৃতির ছায়ায় আসি।

তাঁরা কৃষ্ণকে 'ভূতাদিমব্যয়ম্' হিসেবে জানেন। অর্থাৎ তাঁরা বোঝেন যে সৃষ্টির সবকিছুর শুরু কৃষ্ণে এবং শেষও কৃষ্ণে। এই জ্ঞান তাঁদের মনে অটল শান্তি দেয়। তাঁরা জানেন যে ভগবানকে সেবা করাই আত্মার আসল স্বভাব।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের আদর্শ জীবনের পথ দেখায়। এটি আমাদের শেখায় যে যদি আমরা শান্তি পেতে চাই, তবে আমাদের দৈবী গুণের চর্চা করতে হবে। ভক্তি কোনো জোরপূর্বক বিষয় নয়, এটি মহাত্মাদের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা। এই শ্লোকটি আমাদের অন্তরের মহত্ত্বকে জাগিয়ে তোলে।