সততং কীর্তয়ন্তো মাং যতন্তশ্চ দৃঢ়ব্রতাঃ ।
নমস্যন্তশ্চ মাং ভক্ত্যা নিত্যযুক্তা উপাসতে ॥ ৯.১৪ ॥
সরল ভাবার্থ:
সেই ভক্তগণ সর্বক্ষণ আমার নাম ও মহিমা কীর্তন করে, কঠোর সংকল্পের সাথে সাধনায় যত্নশীল হয়ে এবং আমাকে ভক্তিভরে প্রণাম করে সর্বদা আমাতে যুক্ত থেকে আমার উপাসনা করেন।
১. সততং কীর্তয়ন্তো: কীর্তন মানে কেবল গান নয়, বরং কৃষ্ণের কথা বলা, তাঁর চিন্তা করা এবং তাঁর কাজ করা। এটি হলো মনের একটি নিরন্তর অবস্থা।
২. দৃঢ়ব্রতাঃ: পথে বাধা আসবেই, কিন্তু ভক্তের সংকল্প অটুট। তিনি কোনো অবস্থাতেই তাঁর সাধনপথ থেকে বিচ্যুত হন না।
৩. নিত্যযুক্তা: তাঁরা ২৪ ঘণ্টা ঈশ্বরের সাথে কানেক্টেড। যেমন একজন প্রেমিক সবসময় তাঁর প্রিয়ার কথা ভাবে, ভক্তও তেমনি কর্মের মাঝেও কৃষ্ণের সাথে যুক্ত থাকেন।
এই শ্লোকটি ভক্তিযোগের এক বাস্তবসম্মত সিলেবাস। এখানে কৃষ্ণের উপাসনার চারটি স্তম্ভ বলা হয়েছে—কীর্তন (বলা), যত্ন (প্রচেষ্টা), প্রণাম (নম্রতা) এবং নিত্যতা (ধারাবাহিকতা)। ভক্তি কেবল আবেগ নয়, এটি একটি শৃঙ্খলিত জীবনধারা।
কীর্তন করলে আমাদের মন শুদ্ধ হয়। 'যনতশ্চ' শব্দের মাধ্যমে কৃষ্ণ বোঝাচ্ছেন যে আলস্য দিয়ে ঈশ্বর পাওয়া যায় না, এর জন্য শ্রম ও সাধনা লাগে। আবার 'নমস্যন্তশ্চ' মানে হলো অহংকার বিসর্জন দেওয়া। যে নিচু হতে জানে, সে-ই ঈশ্বরের কৃপা ধারণ করতে পারে।
ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে ভক্তিপূর্ণ করতে শেখায়। আমরা বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে থেকেও এই সাধনা করতে পারি। প্রতিটি শুভ কাজকে কৃষ্ণের কীর্তন হিসেবে ভাবলে জীবনটাই মন্দির হয়ে ওঠে। এই শ্লোকটি আমাদের এক আনন্দময় আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান দেয়।