জ্ঞানযজ্ঞেন চাপ্যন্যে যজন্তো মামুপাসতে ।
একত্বেন পৃথক্ত্বেন বহুধা বিশ্বতোমুখম্ ॥ ৯.১৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
অন্যান্য অনেকে জ্ঞানযজ্ঞের মাধ্যমে আমার উপাসনা করেন। কেউ অভেদভাবে (আমিই সেই ব্রহ্ম), কেউ পৃথকভাবে (আমি দাস, তিনি প্রভু) আবার কেউ বিশ্বরূপের মাধ্যমে আমার বিবিধ উপাসনা করেন।
১. জ্ঞানযজ্ঞ: এটি বিচার ও ধ্যানের পথ। ঈশ্বরকে জানার চেষ্টাই হলো শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ। এখানে মনের অজ্ঞানতাকে জ্ঞানের আগুনে আহুতি দেওয়া হয়।
২. উপাসনার বিভিন্ন রূপ: হিন্দুধর্মের মহান উদারতা এখানে প্রকাশ পেয়েছে। কেউ ঈশ্বরকে নিজের আত্মা হিসেবে দেখে (অদ্বৈত), কেউ তাঁকে উপাস্য দেবতা হিসেবে দেখে (দ্বৈত) আবার কেউ সমগ্র জগতের ভেতরেই তাঁকে দেখে (বিশ্বরূপ)।
৩. বিশ্বতোমুখম্: ঈশ্বরের মুখ সবদিকে। অর্থাৎ তিনি সবকিছুর মাঝেই বিরাজমান।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে তাঁর কাছে পৌঁছানোর অনেক রাস্তা আছে। তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট মতবাদে মানুষকে বেঁধে রাখেন না। যার যেমন রুচি ও বোধশক্তি, সে সেভাবেই তাঁকে ডাকতে পারে। তিনি সব উপাসনাই গ্রহণ করেন যদি সেখানে সত্যনিষ্ঠা থাকে।
যারা জ্ঞানযোগী, তারা এই জগতকে ঈশ্বরের একটি প্রকাশ হিসেবে দেখে গবেষণা করে। এটিও এক প্রকারের উপাসনা। আবার যারা ভক্তিযোগী, তারা কৃষ্ণের সাকার রূপকে ভালোবাসে। কৃষ্ণ বলছেন, এই সবকিছুর শেষ গন্তব্য আমিই।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের পরমতসহিষ্ণুতা শেখায়। অন্যের উপাসনা পদ্ধতি আমার চেয়ে আলাদা হলেও তা ভুল নয়—এই বোধই হলো প্রকৃত জ্ঞান। ঈশ্বরকে কোনো ছাঁচে না ফেলে তাঁর অসীমতাকে স্বীকার করাই হলো এই শ্লোকের মূল শিক্ষা। এটি আমাদের সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত করে এক বিশাল আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দান করে।