অহং ক্রতুরহং যজ্ঞঃ স্বধাহমহমৌষধম্ ।
মন্ত্রোঽহমহমেবাজ্যমহমগ্নিরহং হুতম্ ॥ ৯.১৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমিই শ্রৌত যজ্ঞ (ক্রতু), আমিই স্মার্ত যজ্ঞ, আমিই পিতৃগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত স্বধা, আমিই ওষধি, আমিই মন্ত্র, আমিই ঘি (আজ্য), আমিই অগ্নি এবং আমিই হোমক্রিয়া।
১. যজ্ঞের প্রতিটি অংশই কৃষ্ণ: যজ্ঞ করতে যা যা লাগে—মন্ত্র থেকে শুরু করে ঘি এবং আগুন—সবই কৃষ্ণের বিভিন্ন রূপ। যজ্ঞের বাইরে কিছুই নেই।
২. ওষধি ও মন্ত্র: আমরা যে অন্ন বা ওষুধ খাই, তাও তিনি। আবার যে পবিত্র শব্দ (মন্ত্র) উচ্চারণ করি, তাও তিনি। অর্থাৎ আমাদের জীবন ও জীবনধারণের শক্তি তিনিই।
৩. স্বধা: পূর্বপুরুষদের প্রতি আমাদের যে শ্রদ্ধা ও অর্ঘ্য, তার মূলে আছেন শ্রীকৃষ্ণ।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা এবং দৈনন্দিন জীবন আলাদা কিছু নয়। আমরা যখন কিছু খাই বা কোনো কাজ করি, তখন আমরা আসলে ভগবানের দেওয়া শক্তিই ব্যবহার করি। কৃষ্ণ এখানে সবকিছুর সাথে নিজের অভেদত্ব প্রকাশ করছেন।
মানুষ যখন যজ্ঞ করে, সে মনে করে সে কিছু একটা করছে। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—আয়োজনকারী তুমি নও, আয়োজনও আমিই। এই বোধটি এলে মানুষের ভেতর থেকে 'আমি' বা অহংকার মুছে যায়। আমরা বুঝতে পারি যে আমরা এক বিশাল ঐশ্বরিক নাটকের অংশ মাত্র।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের প্রতিটি কাজকে যজ্ঞে পরিণত করতে সাহায্য করে। যদি ঘি ও আগুন কৃষ্ণ হয়, তবে রান্নার হাঁড়ি আর অফিসের কাজও কৃষ্ণ হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে জীবনের কোনো কাজই তুচ্ছ বা অপবিত্র মনে হয় না। এটি সবকিছুর মাঝে ঈশ্বরকে দেখার এক মহৎ দৃষ্টিভঙ্গি।