॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ১৭ ॥

পিতাহমস্য জগতো মাতা ধাতা পিতামহঃ ।
বেদ্যং পবিত্রমোঙ্কার ঋক্ সাম যজুরেব চ ॥ ৯.১৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমিই এই জগতের পিতা, মাতা, বিধাতা ও পিতামহ। আমিই জ্ঞেয় বস্তু (জানার যোগ্য), পবিত্র ওঙ্কার এবং ঋক্, সাম ও যজুর্বেদ।

১. সব সম্পর্কের মূল: শ্রীকৃষ্ণ আমাদের পরম পিতা ও মাতা। তিনি কেবল সৃষ্টিকর্তা নন, তিনি আমাদের পরমাত্মীয়। পিতামহ বলার অর্থ হলো তিনি সবকিছুর আদি উৎস।

২. বেদ্য ও ওঙ্কার: সমস্ত পড়াশোনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভগবানকে জানা। আর সমস্ত মন্ত্রের সার হলো 'ওঁ' বা ওঙ্কার, যা স্বয়ং কৃষ্ণের ধ্বনি রূপ।

৩. বেদের সার: ঋক, সাম ও যজুর্বেদে যা কিছু বলা হয়েছে, তার মূল গন্তব্য হলো শ্রীকৃষ্ণ।

এই শ্লোকটি আমাদের ঈশ্বরের সাথে এক নিবিড় পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। যখন আমরা কৃষ্ণকে 'পিতা' বা 'মাতা' হিসেবে দেখি, তখন তাঁর প্রতি আমাদের ভয় দূর হয় এবং ভালোবাসা বাড়ে। তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং পরম স্নেহে পালন করেন।

তিনি নিজেকে 'বেদ্য' বলেছেন। এর মানে হলো জগত সম্পর্কে আমরা যতই জানি না কেন, যতক্ষণ না তাঁকে জানছি, ততক্ষণ আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ। বিজ্ঞানের প্রতিটি সত্য আসলে তাঁরই নিয়ম। আর 'ওঙ্কার' হলো সেই কম্পন যা পুরো ব্রহ্মাণ্ডকে ধরে রেখেছে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেকড়ের সন্ধান দেয়। আমরা এই জগতে একা নই, আমাদের পেছনে এক অসীম শক্তির আশীর্বাদ আছে। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং এক পরম নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। আমরা বুঝতে পারি যে সব জ্ঞানের শেষ কথা হলো সেই পরমেশ্বরের চরণে পৌঁছানো।