গতির্ভর্তা প্রভুঃ সাক্ষী নিবাসঃ শরণং সুহৃৎ ।
প্রভবঃ প্রলয়ঃ স্থানং নিধানং বীজমব্যয়ম্ ॥ ৯.১৮ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমিই গতি (লক্ষ্য), ভরণপোষণকারী, প্রভু, সাক্ষী, বাসস্থান, আশ্রয়, পরম বন্ধু, সৃষ্টি, স্থিতি, লয়, আধার ও অবিনাশী বীজ।
১. সাক্ষী ও সুহৃৎ: তিনি আমাদের প্রতিটি কাজ দেখছেন (সাক্ষী) এবং কোনো স্বার্থ ছাড়াই আমাদের উপকার করেন (সুহৃৎ)। তাঁর মতো নিঃস্বার্থ বন্ধু আর কেউ নেই।
২. গতি ও শরণ: জীবনের সব রাস্তার শেষ গন্তব্য তিনি। যখন আমরা কোথাও শান্তি পাই না, তখন তাঁর 'শরণ' বা আশ্রয়েই আমরা প্রকৃত শান্তি খুঁজে পাই।
৩. সৃষ্টি ও লয়: এই মহাবিশ্বের শুরু তাঁর থেকে এবং শেষও তাঁর কাছে। তিনি সেই অবিনাশী বীজ যা থেকে অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড অঙ্কুরিত হয়।
এই শ্লোকটি ঈশ্বরের দশটি বিশেষ গুণের এক অপূর্ব মালা। কৃষ্ণ এখানে আমাদের জীবনের প্রতিটি দিকের দায়িত্ব নিচ্ছেন। তিনি বলছেন—তুমি যেখানেই যাও (গতি), তুমি যা-ই করো (সাক্ষী), তুমি যেখানেই থাকো (নিবাস)—আমি সবসময় তোমার সাথে আছি।
'ভর্তা' মানে হলো তিনি আমাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। যেমন একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীর দায়িত্ব নেন, ভগবান তেমনি তাঁর সৃষ্টির দায়িত্ব নেন। আবার তিনি 'নিধান' বা আধার, অর্থাৎ তিনি ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও টিকে থাকতে পারি না। এই সব বিশেষণ আমাদের তাঁর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত হতে সাহায্য করে।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের নিঃসঙ্গতা দূর করে। যখন আমাদের মনে হয় কেউ আমাদের কথা শুনছে না বা আমরা একা, তখন কৃষ্ণের এই 'সুহৃৎ' বা বন্ধুর রূপটি আমাদের সাহস দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে সারা বিশ্ব শত্রু হয়ে গেলেও যদি পরমেশ্বর সাথে থাকেন, তবে জয়ের পথ সুনিশ্চিত।