তপাম্যহমহং বর্ষং নিগৃহ্ণাম্যুৎসৃজামি চ ।
অমৃতং চৈব মৃত্যুশ্চ সদসচ্চাহমর্জুন ॥ ৯.১৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে অর্জুন! আমিই সূর্যের উত্তাপ দেই, আমিই বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং আমিই তাকে সংবরণ করি। আমিই অমৃত, আবার আমিই মৃত্যু; আমিই সৎ (অস্তিত্ব) এবং আমিই অসৎ (অভাব)।
১. প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক: রোদ, বৃষ্টি এবং ঋতুচক্রের মূলে আছে শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা। তিনি কেবল দূরে বসে দেখেন না, তিনি প্রকৃতির এই পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে কাজ করেন।
২. অমৃত ও মৃত্যু: যা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে (অমৃত) তাও তিনি, আবার যা আমাদের শরীর বিনাশ করে (মৃত্যু) তাও তিনি। ঈশ্বর ভালো-মন্দ সবকিছুরই ঊর্ধ্বে এক অখণ্ড সত্তা।
৩. সৎ ও অসৎ: যা দৃশ্যমান তা-ই সৎ, আর যা সূক্ষ্ম বা অদৃশ্য তা-ই অসৎ। অর্থাৎ বিশ্বের যা কিছু আছে এবং যা কিছু হতে পারে—সবই তিনি।
এই শ্লোকটি আমাদের চিন্তার জগতকে বড় করে দেয়। আমরা সাধারণত মৃত্যুকে ভয় পাই বা তাপকে কষ্টদায়ক মনে করি। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন যে কষ্টের ভেতরেও আমি আছি। এটি জীবনের বৈপরীত্যকে মেনে নেওয়ার এক শিক্ষা। তিনি যেমন অমৃত হয়ে মুক্তি দেন, তেমনি মৃত্যু হয়ে মায়ার পর্দা সরিয়ে দেন।
সূর্য যেমন পৃথিবীকে শক্তি দেয়, কৃষ্ণ তেমনি আমাদের বুদ্ধিকে আলোকিত করেন। বৃষ্টি যেমন ফসল ফলায়, তাঁর কৃপা তেমনি আমাদের হৃদয়ে ভক্তির ফসল ফলায়। তিনি 'সদসৎ' বলার মাধ্যমে বোঝাচ্ছেন যে মহাবিশ্বে তাঁর বাইরে কোনো জিরো বা শূন্য স্থানও নেই।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের এক পরম সমত্ববোধ (Equanimity) দান করে। জয়-পরাজয় বা জীবন-মৃত্যুকে একই পরমেশ্বরের দুই রূপ হিসেবে দেখতে পারলে মানুষের মনে আর কোনো ঘৃণা বা ক্রোধ থাকে না। এটি আধ্যাত্মিক পূর্ণতার এক অনন্য স্তর। এই শ্লোকটি আমাদের প্রতিটি পরিস্থিতির মাঝে ভগবানের হাত দেখতে শেখায়।