॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২০ ॥

ত্রৈবিদ্যা মাং সোমপাঃ পূতপাপা যজ্ঞৈরিষ্ট্বা স্বর্গতিং প্রার্থয়ন্তে ।
তে পুণ্যমাসাদ্য সুরেন্দ্রম্লোকমশ্নন্তি দিব্যান্ দিবি দেবভোগান্ ॥ ৯.২০ ॥

সরল ভাবার্থ:

যাঁরা তিন বেদে পারদর্শী, যাঁরা সোমরস পান করে নিষ্পাপ হয়েছেন, তাঁরা যজ্ঞের মাধ্যমে আমার উপাসনা করে স্বর্গের প্রার্থনা করেন। তাঁরা পুণ্যবলে ইন্দ্রলোকে গমন করেন এবং সেখানে দেবতাদের দিব্য ভোগ বিলাস আস্বাদন করেন।

১. ত্রৈবিদ্যা বা বেদজ্ঞ: যারা বেদের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে যজ্ঞ করে এবং মনে করে স্বর্গই চরম লক্ষ্য। তারা ঈশ্বরকে পরম প্রিয় হিসেবে না দেখে কেবল ফলদাতা হিসেবে দেখে।

২. সোমপাঃ ও পুণ্য: যজ্ঞের মাধ্যমে তারা নিজেদের পাপ ধুয়ে ফেলে এবং স্বর্গের টিকেট অর্জন করে। এটি এক প্রকারের আধ্যাত্মিক লেনদেন।

৩. দেবভোগ: স্বর্গে অত্যন্ত উন্নত মানের সুখ ও বিলাসিতা পাওয়া যায়। ইন্দ্রের রাজসভায় থাকাকেই তারা জীবনের সার্থকতা মনে করে।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে সকাম কর্মফল বা 'স্বার্থপর ভক্তির' কথা বলছেন। এই সব মানুষ ভগবানকে ডাকে সত্য, কিন্তু তাদের মন পড়ে থাকে স্বর্গের সিটে। কৃষ্ণ দয়ালু দাতা হিসেবে তাঁদের সেই ফল দেন। তাঁরা স্বর্গে যান এবং দেবতাদের মতো সুখ পান।

কিন্তু এখানে একটি বড় 'কিন্তু' আছে। এটি জীবনের আসল গন্তব্য নয়। এটি কেবল একটি বড়সড় বিনোদন পার্কের মতো যেখানে আপনি টিকিট কেটে ঢুকেছেন। শ্রীকৃষ্ণ এখানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে ভক্তি যদি কেবল স্বার্থের জন্য হয়, তবে তা আপনাকে মুক্তি দিতে পারে না।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ধর্মের লক্ষ্য কেবল পরকালে ভালো থাকা নয়, বরং ঈশ্বরের সাথে এক হওয়া। আমরা যদি সামান্য স্বর্গের সুখে তুষ্ট হই, তবে আমরা পরমাত্মার অসীম আনন্দ থেকে বঞ্চিত হব। এই শ্লোকটি আমাদের নিষ্ককাম ভক্তির দিকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এক সূক্ষ্ম পটভূমি তৈরি করে। এটি আমাদের জাগতিক ও পারমার্থিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।