॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২১ ॥

তে তং ভুক্ত্বা স্বর্গলোকং বিশালং ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি ।
এবং ত্রয়ীধর্মমনুপ্রপন্না গতায়তং কামকামা লভন্তে ॥ ৯.২১ ॥

সরল ভাবার্থ:

তাঁরা সেই বিশাল স্বর্গলোক ভোগ করে পুণ্য ক্ষয় হলে পুনরায় এই মর্ত্যলোকে প্রবেশ করেন। এইভাবে বেদে বর্ণিত সকাম ধর্মের অনুসারী ব্যক্তিরা কেবল আসা-যাওয়ার (জন্ম-মৃত্যুর) চক্রই লাভ করেন।

১. ক্ষীণে পুণ্যে: পুণ্য হলো স্বর্গের কারেন্সি বা মুদ্রা। যতক্ষণ পুণ্য আছে, ততক্ষণ স্বর্গে থাকা যায়। পুণ্য ফুরিয়ে গেলেই দেবতারা তাঁদের মর্ত্যলোকে পাঠিয়ে দেন।

২. গতায়তম্ বা যাতায়াত: যাঁরা কেবল কামনার বশবর্তী হয়ে পূজা করেন, তাঁদের যাত্রা অনেকটা পেন্ডুলামের মতো। একবার স্বর্গ, একবার মর্ত্য। এতে চিরস্থায়ী কোনো সমাধান নেই।

৩. ত্রয়ীধর্ম: কেবল তিনটি বেদের বাহ্যিক অনুষ্ঠান পালন করে মোক্ষ পাওয়া অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের গভীর ভক্তি।

এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের 'ভোগ' ও 'যোগ'-এর পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়। আমরা অনেক সময় অনেক ভালো কাজ করি কেবল বড় কোনো লাভের আশায়। কৃষ্ণ বলছেন, এই লাভ ক্ষণস্থায়ী। যেমন একটি রিচার্জ প্যাক শেষ হয়ে গেলে কল কেটে যায়, স্বর্গের আয়ুও তেমনি সীমিত।

মানুষ কেন বারবার পৃথিবীতে ফিরে আসে? কারণ তার বাসনা মেটে না। স্বর্গের ভোগ বাসনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু তৃপ্তি দেয় না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এবং আমাদের এই মোহ থেকে বের হতে বলছেন। তিনি আমাদের স্বপ্নকে স্বর্গের চেয়েও বড় অর্থাৎ 'মুক্তি'র দিকে নিয়ে যেতে চান।

ধর্মীয় বিচারে, এটি একটি বৈপ্লবিক শিক্ষা। এটি আমাদের শেখায় যে পূজা বা দান কোনো ব্যবসা নয়। আমরা যদি ঈশ্বরের সাথে কেনাবেচা করি, তবে আমরা কেবল 'গতায়তম্' বা যাতায়াতই পাব। এই শ্লোকটি আমাদের নিষ্ককাম হওয়ার এবং স্থায়ী শান্তির পথ খোঁজার প্রেরণা দেয়।