॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২২ ॥

অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে ।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্ ॥ ৯.২২ ॥

সরল ভাবার্থ:

যাঁরা অনন্যচিত্তে আমার চিন্তা করতে করতে আমার উপাসনা করেন, সেই নিত্যযুক্ত ভক্তদের যোগ (প্রয়োজনীয় বস্তুর প্রাপ্তি) ও ক্ষেম (প্রাপ্ত বস্তুর সুরক্ষা) আমি নিজে বহন করি।

১. অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো: যার চিন্তায় কৃষ্ণ ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই। এটি হলো ভক্তির সর্বোচ্চ স্তর যেখানে ভক্ত সব ভার ভগবানের ওপর ছেড়ে দেন।

২. যোগক্ষেমং বহাম্যহম্: এটি কৃষ্ণের এক বিস্ময়কর প্রতিশ্রুতি। 'যোগ' মানে যা আমাদের নেই তা পাইয়ে দেওয়া, আর 'ক্ষেম' মানে যা আমাদের আছে তা রক্ষা করা। ভগবান বলছেন, এর দায়িত্ব আমার।

৩. বহাম্যহম্ বা বহন করা: ভগবান এখানে বলেননি 'আমি করিয়ে দিই', তিনি বলছেন 'আমি নিজে বয়ে নিয়ে আসি'। এটি তাঁর ভক্তবাৎসল্যের চরম প্রমাণ।

এই শ্লোকটি গীতার হৃদয় হিসেবে পরিচিত। আমরা সারাজীবন আমাদের অভাব (যোগ) এবং নিরাপত্তা (ক্ষেম) নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—তুমি শুধু আমাকে মনে করো, বাকি সব আমি সামলে নেব। এর মানে এই নয় যে আমরা কাজ করব না, বরং আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে কাজ করব।

যখন একজন শিশু তার বাবার হাত ধরে মেলায় ঘোরে, তখন তার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। ভক্তও ঠিক তেমনি কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা দুর্বলতা নয়, এটি হলো এক গভীর বিশ্বাস যা মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত ও কর্মঠ করে তোলে।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের পরম আশ্রয় দেয়। আমাদের জীবনে যখন কোনো ঘোর বিপদ আসে, তখন এই 'যোগক্ষেম' মন্ত্রটি আমাদের শক্তি দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে আমরা একা নই, আমাদের ভরণপোষণের ভার স্বয়ং পরমেশ্বর নিয়ে রেখেছেন। এই বিশ্বাসই একজন মানুষকে অজেয় করে তোলে।