॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২৩ ॥

যেঽপ্যন্যদেবতাভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ ।
তেঽপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম্ ॥ ৯.২৩ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে কৌন্তেয়! যাঁরা শ্রদ্ধার সাথে অন্য দেবতাদের পূজা করেন, তাঁরাও আসলে আমারই পূজা করেন; কিন্তু সেই পূজা অবিধিপূর্বক বা অজ্ঞানতার সাথে করা হয়।

১. অবিধিপূর্বকম্: এর অর্থ হলো সঠিক পদ্ধতি বা জ্ঞান ছাড়া। যখন মানুষ মনে করে দেবতারা কৃষ্ণের থেকে আলাদা এবং স্বতন্ত্র, তখন তাকে বলা হয় অবিধি।

২. পরম লক্ষ্য এক: যেমন কোনো গাছের মূলে জল না দিয়ে পাতার ওপর জল ছিটালে গাছ বাঁচে না, কিন্তু সেই জল শেষ পর্যন্ত গাছের গোড়াতেই যায়—দেবতাদের পূজাও তেমনি শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের কাছেই পৌঁছায়।

৩. শ্রদ্ধার মূল্য: যদিও তারা ভুল পথে আছে, কিন্তু তাদের শ্রদ্ধাটি সত্য। তাই দয়ালু কৃষ্ণ সেই পূজা গ্রহণ করেন, কিন্তু সেই ভক্তরা পূর্ণ ফল পায় না।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে এক অসামান্য উদারতার কথা বলছেন। তিনি বলছেন, আমিই সব পূজার শেষ গন্তব্য। কিন্তু সরাসরি মূলে (কৃষ্ণে) না গিয়ে শাখা-প্রশাখায় ঘোরার ফলে ভক্তরা মায়ার বন্ধন কাটাতে পারে না। এটি অনেকটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে না গিয়ে পিওনের কাছে সুপারিশ করার মতো।

এই শ্লোকটি আমাদের 'একমেবাদ্বিতীয়ম্' বা পরমেশ্বরের একত্ব বুঝতে সাহায্য করে। জগত জুড়ে যত ধর্ম বা মতবাদ আছে, তারা যদি শ্রদ্ধার সাথে পরম সত্যকে খোঁজে, তবে তারা কৃষ্ণেরই সন্ধান করছে। কিন্তু পূর্ণ জ্ঞান ছাড়া সেই যাত্রা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর হয়।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের সংকীর্ণতা দূর করে। আমরা যেন অন্য মতাবলম্বীদের ঘৃণা না করি, কারণ তারাও সত্যের পথেই আছে, হয়তো একটু বাঁকা পথে। আমাদের উচিত তাদের সঠিক 'বিধি' বা মূল তত্ত্ব সম্পর্কে জানানো। এই শ্লোকটি আমাদের আধ্যাত্মিক ঐক্য ও সঠিক দিশা দান করে।