॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২৪ ॥

অহং হি সর্বযজ্ঞানাং ভোক্তা চ প্রভুরেব চ ।
ন তু মামভিজানন্তি তত্ত্বেনাতশ্চ্যবত্তি তে ॥ ৯.২৪ ॥

সরল ভাবার্থ:

কারণ আমিই সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা এবং প্রভু। কিন্তু তাঁরা আমাকে তত্ত্বগতভাবে (প্রকৃত স্বরূপ) জানেন না, তাই তাঁরা পুনর্জন্মের পথে চ্যুত হন।

১. ভোক্তা ও প্রভু: যজ্ঞের আহুতি যে দেবতার নামেই দেওয়া হোক না কেন, তা হজম করার বা গ্রহণ করার শক্তি কেবল কৃষ্ণের। তিনি যজ্ঞের মালিক।

২. তত্ত্বেন বা স্বরূপগত জ্ঞান: যারা কৃষ্ণকে কেবল একজন রক্ত-মাংসের মানুষ মনে করে, তারা তাঁকে তত্ত্বগতভাবে জানে না। এই অজ্ঞানতাই পতনের কারণ।

৩. চ্যবত্তি বা পতন: যারা মূল সত্যকে বোঝে না, তারা স্বর্গ থেকে বারবার ফিরে আসে। তাদের মোক্ষ বা মুক্তি হয় না।

এই শ্লোকটি আমাদের আধ্যাত্মিক অহংকার থেকে সতর্ক করে। অনেকে অনেক শাস্ত্র পড়েন বা বড় বড় যজ্ঞ করেন, কিন্তু যদি হৃদয়ে কৃষ্ণের পরমত্বের উপলব্ধি না থাকে, তবে সব পরিশ্রম পণ্ড। এটি অনেকটা পোস্ট অফিসের ঠিকানায় ভুল করার মতো—চিঠি প্রাপকের কাছে পৌঁছায় না।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিজেকে 'প্রভু' বলে ঘোষণা করেছেন। এর মানে হলো তাঁর অনুমতির বাইরে কোনো দেবতাই ফল দিতে পারেন না। যখন আমরা এই সত্যটি জানি, তখন আমাদের আর এদিক-ওদিক ঘোরার দরকার পড়ে না। আমরা সরাসরি উৎসের সাথে যুক্ত হতে পারি।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের উপাসনাকে একমুখী ও শক্তিশালী করে। যখন আমরা জানি যে আমাদের প্রতিটি ছোট কাজ বা প্রার্থনা সরাসরি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি কৃষ্ণের চরণে পৌঁছাচ্ছে, তখন আমাদের ভক্তি অনেক বেশি গম্ভীর ও আনন্দময় হয়ে ওঠে। এই শ্লোকটি আমাদের আধ্যাত্মিক স্থিতিশীলতা প্রদান করে।