যান্তি দেবব্রতা দেবান্পিতৃন্যান্তি পিতৃব্রতাঃ ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মদ্যাজিনোঽপি মাম্ ॥ ৯.২৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
দেবতারাধকগণ দেবতাদের প্রাপ্ত হন, পিতৃপুরুষের উপাসকগণ পিতৃলোক প্রাপ্ত হন, ভূত-প্রেতাদির উপাসকগণ ভূতের যোনি লাভ করেন; কিন্তু আমার ভক্তরা আমাকেই প্রাপ্ত হন।
১. যেমন লক্ষ্য, তেমন প্রাপ্তি: আমরা সারাজীবন যার কথা চিন্তা করি এবং যাকে ভজনা করি, মৃত্যুর পর আমরা সেখানেই যাই। এটি এক অমোঘ মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক নিয়ম।
২. মদ্যাজিনোঽপি মাম্: কৃষ্ণের ভক্তের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। যে কৃষ্ণকে ভালোবাসে, সে সরাসরি কৃষ্ণের ধামে যায়। এটিই হলো শর্টকাট।
৩. বিবিধ লোক: মহাবিশ্বে অনেক স্তর আছে। কিন্তু একমাত্র কৃষ্ণের ধামই হলো সেই জায়গা যেখান থেকে আর কোনো পতন নেই।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে আমাদের সিলেকশন বা পছন্দের স্বাধীনতা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন—তুমি যেখানে যেতে চাও, আমি তোমাকে সেখানেই যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব। তুমি যদি ছোট জিনিসের জন্য পূজা করো, তবে তুমি তাই পাবে। কিন্তু যদি আমাকে চাও, তবে আমাকেই পাবে।
এই শ্লোকটি আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে বড় করতে শেখায়। কেন আমরা ভূত-প্রেত বা সাধারণ দেবতাদের পেছনে শক্তি নষ্ট করব, যেখানে আমরা স্বয়ং পরমেশ্বরকে পেতে পারি? এটি অনেকটা বাড়ির কাজের লোকের বদলে সরাসরি বাড়ির মালিকের সাথে বন্ধুত্ব করার সুযোগ পাওয়ার মতো।
ধর্মীয় বিচারে, এটি পরজন্মের এক সুস্পষ্ট ম্যাপ। আমাদের বর্তমানের ইচ্ছা ও ভক্তিই আমাদের ভবিষ্যৎ লোক নির্ধারণ করে। সুতরাং বুদ্ধিমানের কাজ হলো শ্রীকৃষ্ণের চরণে মন নিবিষ্ট করা, যাতে আমাদের অন্তিম যাত্রা পরম সুখের হয়। এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে।