॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ২৬ ॥

পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি ।
তদহং ভক্ত্যুপহৃতমশ্নামি প্রयतাত্মনঃ ॥ ৯.২৬ ॥

সরল ভাবার্থ:

যিনি আমাকে ভক্তিভরে একটি পাতা, একটি ফুল, একটি ফল অথবা সামান্য জল অর্পণ করেন—সেই শুদ্ধচিত্ত ভক্তের ভক্তিমাখা উপহার আমি প্রীতির সাথে গ্রহণ করি।

১. ভক্তির প্রাধান্য: ভগবান আমাদের টাকা বা দামি উপহার চান না। তিনি দেখেন আমাদের হৃদয়ের ভাব। সামান্য একটি তুলসী পাতা বা এক গ্লাস জলও তাঁর কাছে অমূল্য যদি তাতে ভালোবাসা থাকে।

২. ভক্ত্যুপহৃতম্: উপহারটি কী, তার চেয়ে বড় হলো সেটি কীভাবে দেওয়া হচ্ছে। ভক্তি হলো সেই মশলা যা সাধারণ অন্নকেও প্রসাদে পরিণত করে।

৩. প্রয়তাত্মনঃ: যিনি একাগ্রচিত্তে ও শুদ্ধ মনে নিবেদন করেন, ভগবান তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়ে সেই অর্ঘ্য গ্রহণ করেন।

এই শ্লোকটি ভক্তিযোগকে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ ও সর্বজনীন পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঈশ্বরকে খুশি করার জন্য আপনার ধনী হওয়ার দরকার নেই, পাণ্ডিত্যের দরকার নেই। আপনি একটি বনের ফুল বা রাস্তার ধারের পাতাও তাঁকে দিতে পারেন। এটিই হলো ধর্মের আসল গণতন্ত্র।

কৃষ্ণ এখানে 'অশ্নামি' শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ হলো 'আমি খাই'। এর মানে হলো ভগবান কেবল মূর্তিতে আটকে নেই, তিনি ভক্তের ভাব গ্রহণ করেন। যেমন বিদুরের খুদ বা শবরীর ফল তিনি খেয়েছিলেন। তিনি উপহারের মূল্যের চেয়ে দাতার ব্যাকুলতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সেবার মানসিকতা তৈরি করে। আমরা আমাদের যা আছে তা-ই দিয়ে ভগবানকে স্মরণ করতে পারি। এটি আমাদের শেখায় যে জীবনটা কোনো জটিল ধর্মতত্ত্ব নয়, এটি হলো ঈশ্বরের সাথে এক সহজ ও মধুর প্রেমের সম্পর্ক। এই শ্লোকটি প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালায়।