যৎকরোষি যদশাসি যজ্জুহোষি দদাসি যত্ ।
যত্তপস্যসি কৌন্তেয় তৎকুরুষ্ব মদর্পণম্ ॥ ৯.২৭ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে কৌন্তেয়! তুমি যা-ই করো, যা-ই ভক্ষণ করো, যা-ই যজ্ঞ বা দান করো এবং যে তপস্যাই করো না কেন—সেটি আমাকে অর্পণ করো।
১. জীবনই এক যজ্ঞ: এখানে কেবল পূজার কাজের কথা বলা হয়নি। আমরা যা খাই (অশাসি), যা কাজ করি (করোষি)—সবই কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
২. মদর্পণম্ বা অর্পণ করা: অর্পণ করার মানে হলো অহংকার ত্যাগ করা। 'আমি করছি' না বলে 'কৃষ্ণ করাচ্ছেন'—এই বোধটিই হলো মুক্তি।
৩. সর্বাত্মক ভক্তি: এটি আমাদের ২৪ ঘণ্টা কৃষ্ণের সাথে যুক্ত থাকার এক অপূর্ব কৌশল। এতে কর্মও হয় আবার ভক্তিও হয়।
এই শ্লোকটি আধ্যাত্মিকতা ও সাংসারিক জীবনের মাঝখানের দেওয়ালটি ভেঙে দেয়। অনেকে ভাবেন ধর্ম মানে হলো মন্দিরে যাওয়া। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—তোমার প্রতিটি মুহূর্তই ধর্ম হতে পারে। রান্নাবান্না, পড়াশোনা বা অফিস—সবই যখন তুমি বলবে 'কৃষ্ণের জন্য', তখন সেটি আর সাধারণ কাজ থাকে না, তা পূজা হয়ে যায়।
এটি আমাদের কাজের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। কারণ যখন আমরা জানি যে আমাদের কাজটি কৃষ্ণের জন্য, তখন আমরা তা অত্যন্ত যত্ন ও নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করি। এটিই হলো প্রকৃত কর্মযোগ। এতে মানুষের মনে আর কোনো টেনশন বা অবসাদ থাকে না।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের মনের অভিমুখ বদলে দেয়। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র ইচ্ছাগুলোকে যখন ঈশ্বরের মহান সঙ্কল্পের সাথে যুক্ত করি, তখন আমাদের জীবন এক নতুন সার্থকতা পায়। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে কর্মত্যাগ নয়, কর্মের ফল ত্যাগ করাই হলো আসল শান্তি।