শুভাশুভফলৈরেবং মোক্ষ্যসে কর্মবন্ধনৈঃ ।
সংন্যাসযোগযুক্তাত্মা বিমুক্তো মামুপৈষ্যসি ॥ ৯.২৮ ॥
সরল ভাবার্থ:
এইভাবে আমাতে সবকিছু অর্পণ করলে তুমি শুভ ও অশুভ কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্ত হবে। এই সন্ন্যাসযোগের দ্বারা যুক্ত হয়ে তুমি মুক্ত অবস্থায় আমাকেই লাভ করবে।
১. শুভাশুভফলৈ: ভালো কাজের ফলে স্বর্গ আর মন্দ কাজের ফলে নরক—এই দুটিই বন্ধন। অর্পণ করার মাধ্যমে এই দুই প্রকার বন্ধন থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়।
২. সন্ন্যাসযোগ: সবকিছু ছেড়ে বনে যাওয়া সন্ন্যাস নয়। কর্মফল ত্যাগ করে কর্ম করাই হলো আসল সন্ন্যাসযোগ। এটি এক প্রকার মানসিক মুক্তি।
৩. বিমুক্তো বা পরম মুক্তি: যখন কোনো ফলের চিন্তা থাকে না, তখন মন শান্ত ও প্রসন্ন হয়। এই অবস্থায় মৃত্যুকালে আত্মা সরাসরি পরমাত্মায় বিলীন হয়।
আমরা সাধারণত ভালো ফল খুঁজি। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, ভালো ফলের বন্ধনও তোমাকে এই জগতে আটকে রাখবে। যেমন সোনার শিকলও শিকলই। যদি আমরা সত্যিই স্বাধীন হতে চাই, তবে আমাদের ফলের মোহ ছাড়তে হবে।
সবকিছু কৃষ্ণে অর্পণ করলে আমাদের কর্মের 'হিসাব খাতা' শূন্য হয়ে যায়। আমরা তখন কেবল ভগবানের হাতের যন্ত্র হয়ে কাজ করি। এতে সাফল্যের আনন্দ যেমন আমাদের অহংকারী করে না, তেমনি ব্যর্থতার দুঃখ আমাদের ভেঙে ফেলে না। এই মানসিক ভারসাম্যই হলো প্রকৃত যোগ।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের কর্মের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। আমরা যখন বলি 'শ্রীকৃষ্ণার্পণমস্তু', তখন আমাদের কাজের সব দায় তাঁর হয়ে যায়। এই পরম শান্তিই একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই শ্লোকটি আমাদের মুক্ত মনে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়।