সমোঽহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্যোঽস্তি ন প্রিয়ঃ ।
যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যা ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্ ॥ ৯.২৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমি সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমভাবাপন্ন। আমার কোনো শত্রু নেই এবং প্রিয়ও কেউ নেই। তবে যাঁরা আমাকে ভক্তিভরে ভজনা করেন, তাঁরা আমাতে অবস্থান করেন এবং আমিও তাঁদের হৃদয়ে বাস করি।
১. সমোঽহং বা পক্ষপাতহীনতা: ঈশ্বর সূর্যের আলোর মতো। তিনি সবার ওপর সমানভাবে কিরণ দেন। তিনি কাউকে ঘৃণা করেন না এবং কারো প্রতি আলাদা দুর্বলতাও পোষণ করেন না।
২. হৃদয়ে অবস্থান: ভক্ত ও ভগবানের সম্পর্কটি আগুনের উত্তাপের মতো। আগুন যেমন যে কাছে যায় তাকেই তাপ দেয়, ভগবানও তেমনি তাঁর কাছে আসা ভক্তের হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।
৩. ভক্তের স্বাধীনতা: ভগবান জোর করে কারো ঘরে ঢোকেন না। যে দরজা খোলে, তিনি কেবল তাঁর ঘরেই আলো দেন। এটি ভক্তের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এই শ্লোকটি একটি মহান সত্য প্রকাশ করে। অনেকে ভাবেন ভগবান হয়তো হিন্দুদের বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রিয়। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—আমি সবার। এমনকি একজন পাপীও যদি আমাকে ডাকে, আমি তাঁর জন্যও তৈরি। তিনি সূর্যের মতো, কিন্তু আমরা যদি ঘরের জানলা বন্ধ রাখি, তবে আলো ঢুকবে না। সেই জানলা খোলা মানেই হলো 'ভক্তি'।
ভক্ত ভগবানের ভেতরে থাকে আর ভগবান ভক্তের ভেতরে—এটি এক অপূর্ব আদান-প্রদান। এটি যেন একটি আয়নার খেলা। আমরা যেমন তাঁর দিকে তাকাই, তিনিও আমাদের দিকে তেমনি তাকান। এই ঘনিষ্ঠতা আমাদের জীবনের সব শূন্যতা পূরণ করে দেয়।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের সাম্যবাদ শেখায়। যখন স্বয়ং ঈশ্বর সবার প্রতি সমান, তখন আমরা মানুষকে জাত বা ধর্মের ভিত্তিতে বিচার করার কে? এই শ্লোকটি আমাদের উদার হতে এবং সবার মধ্যে কৃষ্ণকে দেখতে শেখায়। এটিই হলো প্রকৃত আধ্যাত্মিক মানবতাবাদ।