অপি চেৎসুদুরাচারো ভজতে মামনন্যভাক্ ।
সাধুরেব স মন্তব্যঃ সম্যগ্ব্যবসিতো হি সঃ ॥ ৯.৩০ ॥
সরল ভাবার্থ:
যদি অতিশয় দুরাচারী ব্যক্তিও অনন্য চিত্তে আমাকে ভজনা করে, তবে তাকে সাধু বলেই গণ্য করা উচিত; কারণ তিনি শুভ সংকল্পে স্থির হয়েছেন।
১. অপি চেৎসুদুরাচারো: এটি এক চরম ক্ষমার কথা। কেউ সারাজীবন ভুল করলেও যদি শেষ মুহূর্তে সত্যকে চিনে কৃষ্ণকে ডাকে, কৃষ্ণ তাকেও গ্রহণ করেন।
২. সাধুরেব স মন্তব্যঃ: আমরা অতীত দেখে বিচার করি, কিন্তু কৃষ্ণ বর্তমানের সংকল্প দেখেন। যখন কেউ নিজের ভুল বুঝে ভগবানের দিকে ঘোরে, তখন থেকেই সে সাধু হওয়ার যাত্রা শুরু করে।
৩. শুভ সংকল্প: সংকল্পের শক্তিই মানুষকে বদলে দেয়। 'অনন্যভাক্' হওয়ার মানে হলো সে এখন অন্য সব পথ ছেড়ে কেবল সত্যের পথে হাঁটতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে পরিবর্তনের কোনো শেষ সময় নেই। জগত তাকে ঘৃণা করলেও কৃষ্ণ তাকে বুকে টেনে নেন। যেমন নোংরা সোনাকেও আগুনে পোড়ালে তা আবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তেমনি ভক্তির আগুনে দুরাচারী মানুষের পাপ পুড়ে সাফ হয়ে যায়।
এটি আমাদের অন্যের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতে বলে। আমরা জানি না কার ভেতরে কখন পরিবর্তনের আগুন জ্বলে উঠবে। রত্নাকর যেমন ভক্তির শক্তিতে বাল্মীকি হয়েছিলেন, কৃষ্ণ বলছেন এমন রূপান্তর সবার ক্ষেত্রেই সম্ভব।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের হতাশা থেকে মুক্তি দেয়। আমরা হয়তো অনেকে অনেক ভুল করেছি, কিন্তু কৃষ্ণের এই দরজা সবসময় খোলা। এটি এক পরম আশা ও ক্ষমার ধর্ম। এই শ্লোকটি আমাদের নতুন করে শুরু করার সাহস দেয়। এটিই হলো ধর্মের আসল সৌন্দর্য।