ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা শাশ্বচ্ছান্তিং নিগচ্ছতি ।
কৌন্তেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি ॥ ৯.৩১ ॥
সরল ভাবার্থ:
তিনি অতি শীঘ্রই ধর্মাত্মা হয়ে ওঠেন এবং শাশ্বত শান্তি লাভ করেন। হে কৌন্তেয়! তুমি সাহসের সাথে ঘোষণা করো যে, আমার ভক্তের কখনো বিনাশ হয় না।
১. ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা: আগের শ্লোকে বলা দুরাচারী ব্যক্তি যখন কৃষ্ণের শরণ নেয়, তখন সে কত দ্রুত বদলে যায়? কৃষ্ণ বলছেন 'ক্ষিপ্রং' বা অত্যন্ত দ্রুত। ভক্তির শক্তি একজন মানুষের চরিত্রকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে।
২. ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি: এটি গীতার অন্যতম শক্তিশালী আশ্বাস। কৃষ্ণ অর্জুনকে দিয়ে এই কথাটি ঘোষণা করাচ্ছেন যাতে জগতের মানুষ জানে যে, ভগবানের ভক্তের কখনো আধ্যাত্মিক পতন হয় না।
৩. শাশ্বচ্ছান্তিং: জাগতিক শান্তি সাময়িক, কিন্তু কৃষ্ণকে পাওয়ার পর যে শান্তি আসে তা অক্ষয় ও শাশ্বত।
শ্রীকৃষ্ণ নিজে এই কথাটি ঘোষণা না করে অর্জুনকে দিয়ে করালেন কেন? কারণ ভগবান অনেক সময় ভক্তের জন্য নিজের প্রতিজ্ঞা ভাঙেন (যেমন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অস্ত্র না ধরার প্রতিজ্ঞা ভেঙেছিলেন), কিন্তু তিনি তাঁর ভক্তের মুখ দিয়ে বলা কথা কখনো মিথ্যে হতে দেন না। এটি অর্জুনের প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসার প্রমাণ।
ভক্তির পথে নামলে মানুষ কেন পথভ্রষ্ট হয় না? কারণ ভগবান নিজে তাঁর হাত ধরে থাকেন। বিপদে পড়লে ভগবান তাঁকে রক্ষা করেন। এমনকি যদি ভক্ত কোনো ভুলও করে ফেলে, তবে কৃষ্ণ তাকে সেই ভুল থেকে শিক্ষা দিয়ে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।
ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের পরম ভরসা দেয়। আমরা অনেক সময় নিজেদের অপরাধের কথা ভেবে হতাশ হই। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন—হতাশ হয়ো না, শুধু আমার ভক্ত হও, তোমার সুরক্ষা ও শান্তির দায়িত্ব আমার। এই শ্লোকটি প্রতিটি মুমূর্ষু প্রাণের জন্য এক নতুন জীবনের সঞ্জীবনী মন্ত্র।