॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৩২ ॥

মাং হি পার্থ ব্যপাশ্রিত্য যেঽপি স্যুঃ পাপযোনয়ঃ ।
স্ত্রিয়ো বৈশ্যাস্তথা শূদ্রাস্তেঽপি যান্তি পরাং গতিম্ ॥ ৯.৩২ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পার্থ! নারী, বৈশ্য, শূদ্র অথবা অন্ত্যজ শ্রেণিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরাও যদি আমার শরণাপন্ন হয়, তবে তাঁরাও পরম গতি (মুক্তি) লাভ করেন।

১. ব্যপাশ্রিত্য বা শরণাগতি: মুক্তি পাওয়ার জন্য উচ্চকুলে জন্ম বা বিশাল পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু ঈশ্বরের চরণে পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

২. সাম্যবাদ: তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় যাদের শিক্ষার অধিকার সীমিত ছিল, কৃষ্ণ তাদের সবার জন্য মোক্ষের দরজা খুলে দিয়েছেন। ভগবানের কাছে সবাই সমান।

৩. পরাং গতিম্: পরম গতি মানে হলো সেই অবস্থা যেখানে পৌঁছালে আর কোনো অভাব থাকে না। ভক্তি সব সামাজিক ও শারীরিক সীমানাকে অতিক্রম করে যায়।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে এক পরম আধ্যাত্মিক সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে আত্মার কোনো লিঙ্গ, বর্ণ বা জাতি নেই। তৎকালীন প্রেক্ষাপটে যারা অবহেলিত ছিল, কৃষ্ণ তাদের পরম সম্মান দিয়েছেন। ভক্তি হলো এমন এক গঙ্গা যাতে স্নান করলে যে কেউ পবিত্র হতে পারে।

পাপযোনি বলতে এখানে এমন পরিবেশের কথা বলা হয়েছে যেখানে ধর্মচর্চার সুযোগ কম। কৃষ্ণ বলছেন, পরিবেশ যা-ই হোক, যদি কারো মন আমার দিকে থাকে, তবে আমি তাকে টেনে নেব। এটি আমাদের সংকীর্ণ জাতপাত বা ভেদাভেদ থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়।

ধর্মীয় বিচারে, এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে ভক্তি হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের জন্ম বা সামাজিক পরিচয় আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা হতে পারে না। এই শ্লোকটি হিন্দুধর্মের সেই বিশাল উদারতাকে তুলে ধরে যা বলে—যাঁরা ঈশ্বরকে ডাকে, তাঁরাই তাঁর আপন। এটি আমাদের সবার মধ্যে ঈশ্বরকে দেখার প্রেরণা দেয়।