॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৩৩ ॥

কিং পুনব্রাহ্মণাঃ পুণ্যা ভক্তা রাজর্ষয়স্তথা ।
অনিত্যমসুখং লোকমিমং প্রাপ্য ভজস্ব মাম্ ॥ ৯.৩৩ ॥

সরল ভাবার্থ:

অবহেলিতরাই যদি আমাকে লাভ করতে পারে, তবে পবিত্র ব্রাহ্মণ ও ভক্ত রাজর্ষিদের কথা আর কী বলার আছে? অতএব, এই অনিত্য ও সুখহীন জগতে যখন তুমি এসেছো, তখন আমাকেই ভজনা করো।

১. অনিত্যমসুখং লোকম্: এই জগত ক্ষণস্থায়ী এবং এখানে প্রকৃত সুখ নেই। এটি এই অধ্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এখানে প্রতিটি সুখের শেষ হয় দুঃখে।

২. ভজস্ব মাম্ বা আমায় ভজনা করো: যেহেতু এই পৃথিবী দুঃখের জায়গা, তাই সময় নষ্ট না করে ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. রাজর্ষি ও ব্রাহ্মণ: যারা জ্ঞান ও ক্ষমতার অধিকারী, তাদের দায়িত্ব আরও বেশি যাতে তারা সাধারণ মানুষকে ভক্তির পথে পরিচালিত করে।

কৃষ্ণ অর্জুনকে জীবনের রূঢ় বাস্তবতা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। আমরা অনেক সময় ভাবি জগতটা খুব সুন্দর এবং এখানে চিরকাল থাকব। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন এটি 'অনিত্য' (অস্থায়ী) এবং 'অসুখ' (সুখহীন)। যেমন একটি মরুভূমিতে কেউ মরীচিকার পেছনে ছোটে, আমরাও তেমনি এই জগতে স্থায়ী সুখ খুঁজি।

এই শ্লোকটি আমাদের আলস্য ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। আমাদের শরীর ও সময় যেকোনো মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই অর্জুনকে লক্ষ্য করে কৃষ্ণ আমাদের সবাইকে বলছেন—এখনই সময় আমাকে ডাকার। সুযোগ হাতছাড়া কোরো না।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেয়। আমরা কেন এই পৃথিবীতে এসেছি? কেবল ঘরসংসার করতে নয়, বরং এই নশ্বর জগত থেকে মুক্তি পেয়ে সেই অবিনাশী প্রেমময় কৃষ্ণের ধামে ফেরার জন্য। এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার ঠিক করতে সাহায্য করে।