॥ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ॥

অধ্যায় ১১: বিশ্বরূপ দর্শন যোগ

॥ শ্লোক ১১.১ ॥

অর্জুন উবাচ ।
মদনুগ্রহায় পরমং গুহ্যমধ্যাত্মসংজ্ঞিতম্।
যত্ত্বয়োত্তং বচস্তেন মোহোহয়ং বিগতো মম।।

অনুবাদ: অর্জুন বললেন: আমার প্রতি অনুগ্রহ করে আপনি যে পরম গোপনীয় আধ্যাত্মতত্ত্বের কথা বলেছেন, সেই বাক্যের দ্বারা আমার মোহ দূর হয়েছে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২ ॥

ভবাপ্যয়ৌ হি ভূতানাম্ শ্রুতৌ বিস্তরশো ময়া ।
ত্বত্তঃ কমলপত্রাক্ষ মাহাত্ম্যমপি চাব্যয়ম্ ॥

অনুবাদ: হে কমললোচন, আপনার কাছ থেকে আমি প্রাণীদের উৎপত্তি ও বিনাশের কথা বিস্তারিতভাবে শুনেছি, এবং আপনার অব্যয় মাহাত্ম্যের কথাও শুনেছি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩ ॥

এবমেতদ্ যথাত্থ ত্বম্ আত্মানং পরমেশ্বর ।
দ্রষ্টুমিচ্ছামি তে রূপম্ ঐশ্বরং পুরুষোত্তম ॥

অনুবাদ: হে পরমেশ্বর পুরুষোত্তম, আপনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তা ঠিকই; কিন্তু আমি আপনার সেই ঐশ্বরিক রূপ দেখতে ইচ্ছা করি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪ ॥

মন্যসে যদি তচ্ছক্যং ময়া দ্রষ্টুমিতি প্রভো ।
যোগেশ্বর ততো মে ত্বং দর্শয়াত্মানমব্যয়ম্ ॥

অনুবাদ: হে প্রভু, হে যোগেশ্বর, যদি আপনি মনে করেন যে সেই রূপ আমার দ্বারা দেখা সম্ভব, তবে আপনি সেই অব্যয় আত্মস্বরূপ আমাকে প্রদর্শন করুন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫ ॥

শ্রীভগবান্ উবাচ ।
পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোঽথ সহস্রশঃ ।
নানাবিধানি দিব্যানি নানা বর্ণাকৃতি নি চ ॥

অনুবাদ: শ্রীভগবান্ বললেন: হে পার্থ, তুমি শত শত, সহস্র সহস্র আমার নানাবিধ দিব্য রূপ দর্শন করো, যা নানা বর্ণ ও আকৃতির।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৬ ॥

পশ্যাদিত্যান্ বসূন্ রুদ্রানশ্বিনৌ মরুতস্তথা ।
বহূন্যদৃষ্টপূর্বাণি পশ্যাশ্চর্যাণি ভারত ॥

অনুবাদ: হে ভারত, তুমি আদিত্যগণ, বসুগণ, রুদ্রগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয় এবং মরুদ্গণদের দর্শন করো। পূর্বে অদৃষ্ট বহু আশ্চর্য বস্তুকে তুমি দর্শন করো।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৭ ॥

ইহৈকস্থং জগৎ কৃৎস্নং পশ্যাদ্য সচরাচরম্ ।
মম দেহে গুড়াকেশ য়চ্চাঽন্যদ্ দ্রষ্টুমিচ্ছসি ॥

অনুবাদ: হে গুড়াকেশ, আজ আমার এই দেহে তুমি একত্রে অবস্থিত সমস্ত চরাচর জগৎকে এবং যা কিছু অন্য কিছু দেখতে ইচ্ছা করো, তা-ও দর্শন করো।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৮ ॥

ন তু মাং শক্যসে দ্রষ্টুম্ অনেনৈব স্বচক্ষুষা ।
দিব্যং দদামি তে চক্ষুঃ পশ্য মে যোগম্ ঐশ্বরম্ ॥

অনুবাদ: তুমি তোমার নিজের এই চোখ দিয়ে আমাকে দেখতে পারবে না। আমি তোমাকে দিব্য চোখ দান করছি; আমার এই যোগ-ঐশ্বর্য তুমি দর্শন করো।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৯ ॥

সঞ্জয় উবাচ ।
এবমুক্ত্বা ততো রাজন্ মহাযোগেশ্বরো হরিঃ ।
দর্শয়ামাস পার্থায় পরমং রূপম্ ঐশ্বরম্ ॥

অনুবাদ: সঞ্জয় বললেন: হে মহারাজ (ধৃতরাষ্ট্র), এই কথা বলে মহাযোগেশ্বর হরি (শ্রীকৃষ্ণ) অর্জুনকে সেই পরম ঐশ্বরিক রূপ প্রদর্শন করলেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১০ ॥

বহুবক্ত্রনয়নম্ অনেকাদ্ভুতদর্শনম্ ।
বহু দিব্যাভরণং দিব্যানেকোদ্যতায়ুধম্ ॥

অনুবাদ: সেই রূপে বহু মুখ ও বহু চোখ ছিল, যা বহু অদ্ভুত দর্শনের স্থান, বহু দিব্য অলঙ্কারে ভূষিত এবং বহু দিব্য অস্ত্র উদ্যত করা ছিল।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১১ ॥

দিব্যমাল্যাম্বরধরং দিব্যগন্ধানুলেপনম্ ।
সর্ববাশ্চর্যময়ং দেবম্ অনন্তং বিশ্বতোমুখম্ ॥

অনুবাদ: সেই রূপ দিব্য মালা ও বস্ত্র পরিধানকারী, দিব্য গন্ধ অনুলেপনযুক্ত, সর্ব প্রকার আশ্চর্যময়, অনন্ত এবং বিশ্বতোমুখ (সমস্ত দিকে যার মুখ)।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১২ ॥

দিবি সূর্যসহস্রস্য ভবেদ্ যুগপদুত্থিতা ।
যদি ভাঃ সদৃশী সা স্যাদ্ ভাসস্তস্য মহাত্মনঃ ॥

অনুবাদ: যদি আকাশে সহস্র সূর্যের দীপ্তি একসঙ্গে উদিত হয়, তবে সেই মহাত্মার (বিশ্বরূপের) দীপ্তি তার প্রায় সমান হতে পারে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৩ ॥

তত্রৈকস্থং জগৎ কৃৎস্নং প্রবিভক্তম্ অনেকধা ।
অপশ্যদ্ দেবদেবস্য শরীরে পাণ্ডব স্তদা ॥

অনুবাদ: তখন পাণ্ডব অর্জুন সেই দেবদেবেশ্বরের শরীরে একস্থানে বহু ভাগে বিভক্ত সমগ্র জগৎকে দেখতে পেলেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৪ ॥

ততঃ স বিস্ময়া বিষ্টো হৃষ্টরোমা ধনঞ্জয়ঃ ।
প্রণম্য শিরসা দেবং কৃতাঞ্জলিরভাষত ॥

অনুবাদ: এরপর ধনঞ্জয় (অর্জুন) বিস্ময়ে অভিভূত ও হৃষ্টরোমা হয়ে মাথা নত করে দেবকে প্রণাম করে যুক্তহস্তে (কৃতাঞ্জলি হয়ে) বললেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৫ ॥

অর্জুন উবাচ ।
পশ্যামি দেবাংস্তব দেব দেহে সর্ববাংস্তথা ভূতবিশেষসঙ্ঘান্ ।
ব্ৰহ্মাণমীশং কমলাস নস্থম্ ঋষীংশ্চ সর্ববান্ উরগাংশ্চ দিব্যান্ ॥

অনুবাদ: অর্জুন বললেন: হে দেব, আপনার দেহে আমি সমস্ত দেবগণকে, বিভিন্ন প্রাণী-সমুদয়কে, পদ্মাসনে উপবিষ্ট ব্রহ্মা ও শিবকে, সমস্ত ঋষিগণকে এবং দিব্য সর্পগণকে দেখতে পাচ্ছি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৬ ॥

বহুবাহূদরবক্ত্রনেত্রং পশ্যামি ত্বা সর্ববতোঽনন্তরূপম্ ।
নান্তং ন মধ্যং ন পুনস্তবা দিং পশ্যামি বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ ॥

অনুবাদ: হে বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ, আপনার বহু বাহু, উদর, মুখ ও চোখ দেখতে পাচ্ছি; আপনার অনন্ত রূপ সবদিক দিয়ে বিরাজ করছে। আপনার আদি, মধ্য বা অন্ত— কিছুই আমি দেখতে পাচ্ছি না।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৭ ॥

কিরীটিনং গদিনং চক্রিণং চ তেজোরাশিং সর্ববতো দীপ্তিমন্তম্ ।
পশ্যামি ত্বা দুর্নিরীক্ষ্যং সমস্তাদ্ দীপ্তানলার্কদ্যুতিম্ অপ্রমেয়ম্ ॥

অনুবাদ: আপনাকে মুকুটধারী, গদা ও চক্রধারী, তেজোরাশি, সমস্ত দিক দিয়ে দীপ্তিমান, দুর্নিরীক্ষ্য, প্রজ্বলিত অগ্নি ও সূর্যের মতো দীপ্তিশালী এবং অপ্রমেয় রূপে দেখতে পাচ্ছি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৮ ॥

ত্বমক্ষরং পরমং বেদিতব্যং ত্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ ।
ত্বমব্যয়ঃ শাশ্বতধর্মগোপ্তা সনাতনস্ত্বং পুরুষো মতো মে ॥

অনুবাদ: আপনিই সেই অক্ষর পরম ব্রহ্ম, যাঁর বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা কর্তব্য। আপনিই এই বিশ্বের পরম আশ্রয়। আপনি অব্যয়, শাশ্বত ধর্মের রক্ষক, আমার মতে আপনিই সনাতন পুরুষ।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.১৯ ॥

অনাদিমধ্যান্তম্ অনন্তবীর্য়ম্ অনন্তবাহুং শশিসূর্য্যনেত্রম্ ।
পশ্যামি ত্বা দীপ্তহুতাশবক্ত্রং স্বতেজসা বিশ্বম্ ইদং তপন্তম্ ॥

অনুবাদ: আপনাকে আদি, মধ্য ও অন্তহীন, অনন্ত বীর্যবান, অনন্ত বাহুযুক্ত, চন্দ্র-সূর্যকে নেত্ররূপে ধারণকারী এবং প্রজ্বলিত অগ্নির মতো মুখবিশিষ্ট রূপে দেখছি, যিনি স্বীয় তেজে এই বিশ্বকে দগ্ধ করছেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২০ ॥

দ্যাবাপৃথিব্যোরিদম্ অন্তরং হি ব্যাপ্তং ত্বয়ৈকেন দিশশ্চ সর্ববাঃ ।
দৃষ্ট্বাদ্ভুতং রূপম্ উগ্রং তবেদং লোকত্রয়ং প্রব্যথিতং মহাত্মন্ ॥

অনুবাদ: হে মহাত্মা, স্বর্গ ও পৃথিবীর অন্তর্বর্তী এই বিশাল স্থান এবং সকল দিক কেবল আপনি একাই পরিব্যাপ্ত করে আছেন। আপনার এই অদ্ভুত ও উগ্র রূপ দেখে ত্রিভুবন ভীত ও ব্যাকুল হয়েছে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২১ ॥

অমী হি ত্বা সুরসঙ্ঘা বিশন্তি কেচিদ্ ভিতাঃ প্রাঞ্জলয়ো গৃণন্তি ।
স্বস্তীত্যুক্ত্বা মহর্ষি সিদ্ধসঙ্ঘাঃ স্তুবন্তি ত্বা স্তুতিভিঃ পুষ্কলাভিঃ ॥

অনুবাদ: ঐ দেখুন, দেবগণের সমুদয় আপনার মধ্যে প্রবেশ করছেন; কেউ কেউ ভীত হয়ে যুক্তহস্তে আপনার স্তব করছেন। মহর্ষি ও সিদ্ধগণ 'স্বস্তি' বলে আপনার প্রচুর স্তুতি দ্বারা স্তব করছেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২২ ॥

রুদ্রাদিত্যা বসো যে চ সাধ্যা বিশ্বেঽশ্বিনৌ মরুতশ্চো ষ্ণপাঃ ।
গন্ধর্বযক্ষাসুরসিদ্ধসঙ্ঘাবীক্ষন্তে ত্বাং বিস্মিতাশ্চৈব সর্বে।।

অনুবাদ: রুদ্রগণ, আদিত্যগণ, বসুগণ, সাধ্যগণ, বিশ্বদেবগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, মরুদ্গণ এবং পিতৃগণ, আর গন্ধর্ব, যক্ষ, অসুর ও সিদ্ধগণের সমস্ত সম্প্রদায় বিস্মিত হয়ে আপনাকে দর্শন করছেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৩ ॥

রূপং মহত্তে বহু বক্ত্রনেত্রং মহাবাহো বহু বাহূরুপাদম্ ।
বহূদরং বহু দংষ্ট্রাকরালং দৃষ্ট্বা লোকাঃ প্রব্যথিতাস্ তথাহম্ ॥

অনুবাদ: হে মহাবাহো, আপনার বহু মুখ ও চোখ, বহু বাহু, উরু ও পা এবং বহু উদর ও ভয়ানক দাঁতযুক্ত বিশাল রূপ দেখে লোকসকল এবং আমি নিজেও অত্যন্ত ভীত ও ব্যাকুল হয়েছি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৪ ॥

ন র্স্পৃশং দীপ্তম্ অনেক বর্ণং ব্যত্তাননং দীপ্তবিশালনেত্রম্ ।
দৃষ্ট্বা হি ত্বা প্রব্যথিতান্তরাত্মা ধৃতিং ন বিন্দামি শমং চ বিষ্ণে ॥

অনুবাদ: হে বিষ্ণু, নানা বর্ণবিশিষ্ট, উজ্জ্বল, হা করা মুখ ও দীপ্ত বিশাল চোখযুক্ত আপনাকে দেখে আমার অন্তর আত্মা ব্যাকুল হয়ে পড়েছে; আমি ধৃতি (ধৈর্য) ও শান্তি লাভ করতে পারছি না।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৫ ॥

দংষ্ট্রাকরালানি চ তে মুখানি দৃষ্ট্বৈব কালানলসন্নিভানি ।
দিশো ন জানে ন লভে চ শর্ম্ম প্রসীদ দেবেশ জগন্নিবাস ॥

অনুবাদ: ভয়ংকর দাঁতযুক্ত এবং প্রলয়কালের অগ্নির মতো আপনার মুখগুলি দেখেই আমি দিকভ্রান্ত হয়েছি এবং কোনো শান্তি পাচ্ছি না। হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আপনি প্রসন্ন হোন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৬-২৭ ॥

অমী চ ত্বা ধৃতরাষ্ট্রস্য পুত্রাঃ সর্বে সহৈব ক্ষিতিপালসঙ্ঘৈঃ ।
ভীষ্মো দ্রোণঃ সূতপুত্রস্তথাঽসৌ সহাঽস্মদীয়ৈরপি য়োধমুখ্যৈঃ ॥
বক্ত্রাণি তে ত্বরমাণা বিশন্তি দংষ্ট্রাকরালানি ভয়ানকানি ।
কেচিদ্বিলগ্না দশনান্তরেষু সন্দৃশ্যন্তে চূর্ণিতৈরুত্তমাঙ্গৈঃ ॥

অনুবাদ: ধৃতরাষ্ট্রের সেই সমস্ত পুত্রগণ, রাজাদের সমাজের সঙ্গে, ভীষ্ম, দ্রোণ, এবং সূতপুত্র (কর্ণ) এবং আমাদের পক্ষের প্রধান যোদ্ধারাও ভয়ানক দাঁতযুক্ত আপনার মুখে দ্রুত প্রবেশ করছেন। কেউ কেউ তো দাঁতের ফাঁকে লেগে চূর্ণ-বিচূর্ণ মস্তক সহকারে দেখা যাচ্ছেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৮ ॥

যথা নদীনাং বহবোঽম্বুবেগাঃ সমুদ্রমেবাভিমুখে দ্রবন্তি ।
তথাতবামী নরলোক বীরা বিশন্তি বক্ত্রাণ্যভিবিজ্জ্বলন্তি ॥

অনুবাদ: যেমন নদীসমূহের বহু জলধারা সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়, তেমনই এই নরলোকের বীরগণ আপনার প্রজ্বলিত মুখগুলিতে প্রবেশ করছেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.২৯ ॥

যথা প্রদীপ্তং জ্বলনং পতঙ্গা বিশন্তি নাশায় সমৃদ্ধবেগাঃ ।
তথৈব নাশায় বিশন্তি লোকা-স্তবাপি বক্ত্রাণি সমৃদ্ধবেগাঃ ॥

অনুবাদ: যেমন পতঙ্গেরা নিজেদের বিনাশের জন্য দ্রুতবেগে প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করে, তেমনই এই লোকসকল দ্রুতবেগে আপনার মুখগুলিতে প্রবেশ করছে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩০ ॥

লেলিহ্যসে গ্রসমানঃ সমস্তা-
ল্লোকান্সমগ্রান্বদনৈর্জ্বলদ্ভিঃ ।
তেজোভিরাপূর্য্য জগৎ সমগ্রং
ভাসস্তবোগ্রাঃ প্রতপন্তি বিষ্ণো ॥

অনুবাদ: হে বিষ্ণু, আপনি আপনার প্রজ্বলিত মুখগুলি দ্বারা সমস্ত লোককে চারদিক থেকে গ্রাস করতে করতে লেহন করছেন। আপনার উগ্র তেজরাশি দ্বারা সমস্ত জগৎ পূর্ণ হয়ে দগ্ধ হচ্ছে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩১ ॥

আখ্যাহি মে কো ভবানীগ্ররূপো
নমোঽস্তু তে দেব-বর প্রসীদ ।
বিজ্ঞাতুম ইচ্ছামি ভবন্তম আদ্যং
ন হি প্রজানামি তব প্রবৃত্তিম্ ॥

অনুবাদ: আপনি কে, যিনি এত উগ্র রূপ ধারণ করেছেন? আমাকে বলুন। হে দেববর, আপনাকে নমস্কার, আপনি প্রসন্ন হোন। আমি আদি পুরুষ আপনাকে জানতে ইচ্ছা করি, কারণ আমি আপনার প্রবৃত্তি (প্রয়োজনের কারণ) বুঝতে পারছি না।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩২ ॥

শ্রীভগবান্ উবাচ ।
কালোঽস্মি লোক-ক্ষয়-কৃৎ প্রবৃদ্ধো
লোকান্ সমাহর্ত্তুম ইহ প্রবৃত্তঃ ।
ঋতেঽপি ত্বাং ন ভবিষ্য়ন্তি সর্ব্বে
যেহবস্থিতাঃ প্রত্য়নীকেষু য়োধাঃ ॥

অনুবাদ: শ্রীভগবান্ বললেন: আমি লোকসমূহ বিনাশকারী বর্ধনশীল কাল। আমি এই লোকসমূহকে সংহার করার জন্য এখানে প্রবৃত্ত হয়েছি। প্রতিপক্ষ সৈন্যদলে যেসব যোদ্ধা অবস্থিত আছে, তোমার সাহায্য ছাড়াই তাদের কেউই ভবিষ্যতে জীবিত থাকবে না।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৩ ॥

তস্মাত্ত্বম্ উত্থিষ্ট যশো লভস্ব
জিত্তা শত্রুন্ ভুঙ্ক্ষ্ব রাজ্যং সমৃদ্ধম্ ।
ময়ৈবৈতে নিহতাঃ পূর্ব্বম এব
নিমিত্তমাত্রং ভব সব্য়সাচিন ॥

অনুবাদ: অতএব, তুমি ওঠো, যশ লাভ করো, শত্রুদের জয় করে সমৃদ্ধিশালী রাজ্য ভোগ করো। এই যোদ্ধারা আমার দ্বারাই পূর্বেই নিহত হয়ে আছে; হে সব্যসাচী (অর্জুন), তুমি কেবল নিমিত্ত মাত্র হও।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৪ ॥

দ্ৰোণং চ ভীষ্মং চ জয়দ্রথং চ কর্ণং তথান্যানপি যোধবীরান্।
ময়া হতাংস্ত্বং জহি মা ব্যথিষ্ঠা যুধ্যস্ব জেতাসি রণে সপত্নান্‌॥

অনুবাদ: দ্রোণ, ভীষ্ম, জয়দ্রথ, কর্ণ এবং অন্যান্য সকল বীর— এরা সবাই আমার দ্বারা নিহত হয়েছে। তুমি নির্ভয়ে যুদ্ধ করো; যুদ্ধে তুমি তোমার শত্রুদের জয় করতে পারবে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৫ ॥

সঞ্জয় উবাচ ।
এতচ্ছ্রুত্বা বচনং কেশবস্য
কৃতাঞ্জলিঃ বেপমানঃ কিরীটী ।
নমস্কৃত্বা ভূয় এবাহ কৃষ্ণং
সগদ্গদং ভীত-ভীতঃ প্ৰণম্য ॥

অনুবাদ: সঞ্জয় বললেন: কেশবের এই কথা শুনে মুকুটধারী অর্জুন কাঁপতে কাঁপতে যুক্তহস্ত হলেন। তিনি বারংবার শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করে, অত্যন্ত ভীত ও গদগদ কণ্ঠে বললেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৬ ॥

অর্জুন উবাচ ।
স্থানে হৃষীকেশ তব প্রকীর্ত্ত্যা
জগত্ প্রহৃষ্যত্যনুরজ্যতে চ ।
রক্ষাসি ভীতাণি দিশো দ্রবন্তি
সর্ব্বে নমস্যন্তি চ সিদ্ধ-সঙ্ঘাঃ ॥

অনুবাদ: অর্জুন বললেন: হে হৃষীকেশ, আপনার মহিমা কীর্তন করলে জগৎ আনন্দিত হয় এবং অনুরক্ত হয়। ভীত রাক্ষসগণ দিকে দিকে পলায়ন করে এবং সমস্ত সিদ্ধ পুরুষগণ আপনাকে নমস্কার করেন— এটিই তো উপযুক্ত!
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৭ ॥

কস্মাচ্চ তে ন নমেরন্ মহাত্মন্
গরীয়সে ব্ৰহ্মণোঽপ্য আদি-কর্ত্তে ।
অনন্ত দেবেশ জগন্নিবাস
ত্বম্ অক্ষরং সদসত্ তত্ পরং য়ত্ ॥

অনুবাদ: হে মহাত্মা, আপনি ব্রহ্মারও আদি সৃষ্টিকর্তা এবং সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাই কেনই বা তারা আপনাকে প্রণাম করবে না? হে অনন্ত, হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আপনি অক্ষর পুরুষ, আপনিই সৎ (কার্য) এবং অসৎ (কারণ) এবং তার অতীত পরম বস্তু।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৮ ॥

ত্বম্ আদি-দেবঃ পুরুষঃ পুরাণস্
ত্বম্ অস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ ।
বেত্তাসি বেদ্যং চ পরং চ ধাম
ত্বয়া ততং বিশ্বম্ অনন্ত-রূপ ॥

অনুবাদ: আপনি আদিদেব, সনাতন পুরুষ, আপনিই এই বিশ্বের পরম আশ্রয়। আপনি জ্ঞাতা, জ্ঞেয় বস্তু এবং পরম ধাম। হে অনন্তরূপ, এই বিশ্ব আপনার দ্বারাই পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৩৯ ॥

বায়ুর্ য়মোঽগ্নির্ বরুণঃ শশাঙ্কঃ
প্রজাপতিস্ত্বং প্রপিতামহশ্চ ।
নমো নমস্তেঽস্তু সহস্র-কৃত্বঃ
পুনশ্চ ভূয়োঽপি নমো নমস্তে ॥

অনুবাদ: আপনি বায়ু, যম, অগ্নি, বরুণ, চন্দ্র, ব্রহ্মা (প্রজাপতি) এবং পিতামহ। আপনাকে সহস্রবার নমস্কার; আবার আপনাকে বারবার নমস্কার।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪০ ॥

নমঃ পুরস্তাদ অথ পৃষ্ঠতস তে
নমোঽস্তু তে সর্ববত এব সর্ব ।
অনন্ত-বীর্য্যামিত-বিক্রমস্
ত্বং সর্ববং সমাপ্নোষি ততোঽসি সর্বঃ ॥

অনুবাদ: আপনাকে সামনে থেকে, পিছন থেকে এবং সব দিক থেকে নমস্কার, হে সর্বস্বরূপ। হে অনন্তবীর্য, অমিতবিক্রম, আপনি সমস্তই পরিব্যাপ্ত করে আছেন, তাই আপনিই সব।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪১-৪২ ॥

সখেতি মত্বা প্রসভং যদুক্তং হে কৃষ্ণ হে যাদব হে সখেতি।
অজানতা মহিমানং তবেদং ময়া প্রমাদাত্ প্ৰণয়েনাপি বা ॥
যচ্চাবহাসার্থম্ অসত্কৃতোঽসি বিহার-শয্যাঽসন-ভোজনেষু ।
একোঽথবাঽপ্য অচ্যুত সমক্ষম্ এতত্ ক্ষমাপয়ে ত্বাম্ অহম্ অপ্রমেয়ম্ ॥

অনুবাদ: আপনাকে সখা মনে করে, আমি যদি আপনাকে সস্নেহে 'হে কৃষ্ণ', 'হে যাদব', 'হে সখা' বলে সম্বোধন করে থাকি; অথবা আপনার এই মহিমা না জেনে প্রমাদবশত বা প্রেমবশতও যা বলে থাকি; আর বিচরণ, শয়ন, উপবেশন বা ভোজনের সময় একা অথবা সকলের সামনে যদি কৌতুকচ্ছলে আপনাকে অসম্মান করে থাকি, হে অচ্যুত, সেই সমস্ত অপরাধের জন্য আমি অপ্রমেয় (অনন্ত) আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৩ ॥

পিতাঽসি লোকস্য চরাচরস্য ত্বম্ অস্য পূজ্যশ্চ গুরুর্ গরীয়ান্ ।
ন ত্বৎসমোহস্ত্যভ্যধিকঃ কুতোহন্যোলোকত্রয়েহ প্যপ্রতিমপ্রভাব।।

অনুবাদ: আপনি এই চরাচর বিশ্বের পিতা। আপনিই সকলের পূজ্য এবং শ্রেষ্ঠ গুরু। এই ত্রিভূবনে আপনার সমান কেউ নেই; তবে আপনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা অধিক কেউ কি করে থাকতে পারে?
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৪ ॥

তস্মাত্ প্রণম্য প্রণিধায় কায়ং
প্রসাদয়ে ত্বাম্ অহম্ ঈশম্ ঈড্যম্ ।
পিতেব পুত্ৰস্য সখেব সখ্যুঃ
প্রিয়ায়ার্হসি দেবদেব সোঢুম্ ॥

অনুবাদ: তাই আমি আপনাকে প্রণাম করে ও শরীরকে নত করে পূজনীয় ঈশ্বর আপনাকে প্রসন্ন করতে চাই। যেমন পিতা পুত্রের প্রতি, সখা সখার প্রতি এবং প্রিয়জন প্রিয়ার প্রতি প্রসন্ন হন, আপনিও তেমনই আমার প্রতি প্রসন্ন হোন (সহ্য করুন)।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৫ ॥

অদৃষ্টপূৰ্ব্বং হৃষিতোঽস্মি দৃষ্ট্বা
ভয়েন চ প্ৰব্যথিতং মনো মে ।
তদেব মে দর্শয় দেব রূপং
প্রসীদ দেবেশ জগন্নিবাস ॥

অনুবাদ: পূর্বে কখনও না দেখা এই রূপ দেখে আমি আনন্দিত হয়েছি, কিন্তু আমার মন ভয়ে ব্যাকুল। হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আপনি সেই পূর্বের (চতুর্ভুজ) রূপই আমাকে দেখান, প্রসন্ন হোন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৬ ॥

কিরীটিনং গদিনং চক্রিণং চ
ইচ্ছামি ত্বাং দ্রষ্টুম্ অহং তথৈব ।
তেনৈব রূপেণ চতুর্-ভুজেন
সহস্র-বাহো ভব বিশ্বমূৰ্ত্তে ॥

অনুবাদ: আপনাকে পূর্বের মতোই কিরীট, গদা ও চক্রধারী রূপে দেখতে ইচ্ছা করি। হে সহস্র বাহুযুক্ত বিশ্বমূর্তি, আপনি সেই চতুর্ভুজ রূপ ধারণ করুন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৭ ॥

শ্রীভগবান্ উবাচ ।
ময়া প্রসন্নেন তবার্জ্জুনেদং
রূপং পরং দর্শিতম্ আত্মযোগাত্ ।
তেজোময়ং বিশ্বম্ অনন্তম্ আদ্যং
যস্মে ত্বদন্যেন ন কদাচিদ্ দৃষ্টপূৰ্ব্বম্ ॥

অনুবাদ: শ্রীভগবান্ বললেন: হে অর্জুন, আমার প্রসন্নতা হেতু আমি আমার আত্মযোগের প্রভাবে তোমাকে এই তেজময়, বিশ্বময়, অনন্ত ও আদি রূপ দেখালাম, যা তোমার আগে অন্য কেউ কখনও দেখেনি।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৮ ॥

ন বেদযজ্ঞাধ্যয়নৈর্ন দানৈ-র্ন চ ক্রিয়াভির্ন তপোভিরুগ্রৈঃ
এবংরূপঃ শক্যোঽহং নৃলোকে দ্ৰষ্টুং ত্বদ অন্যেন কুৰু-প্ৰবীর ॥

অনুবাদ: হে কুরুবীর, এই মনুষ্যলোকে বেদ পাঠ, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, দান, কর্ম বা উগ্র তপস্যা দ্বারাও আমার এই রূপ তোমার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে দেখা সম্ভব নয়।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৪৯ ॥

মা তে ব্য়থা মা চ বিমূঢ়-ভাবো
দৃষ্ট্বা রূপং ঘোরমীদৃঙ্ মমেদম্।
ব্যপেতভীঃ প্রীতমনাঃ পুনস্ত্বং
তদেব মে রূপম্ ইদং প্ৰপশ্য ॥

অনুবাদ: আমার এই রকম ভয়ানক রূপ দেখে তোমার কোনো উদ্বেগ বা মোহ যেন না হয়। এখন তুমি ভয় ত্যাগ করে, প্রীত মনে পুনরায় আমার সেই (চতুর্ভুজ) রূপ দর্শন করো।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫০ ॥

সঞ্জয় উবাচ ।
ইত্য অর্জুনং বাসুদেবস্তথোক্ত্বা
স্বকং রূপং দর্শয়ামাস ভূয়ঃ ।
আশ্বাসয়ামাস চ ভীতম্ এনং
ভূত্বা পুনঃ সৌম্য-বপুর্ মহাত্মা ॥

অনুবাদ: সঞ্জয় বললেন: বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই কথা বলে পুনরায় নিজের স্বাভাবিক রূপ দেখালেন। মহাত্মা শ্রীকৃষ্ণ শান্ত ও সৌম্য মূর্তি ধারণ করে ভীত অর্জুনকে সান্ত্বনা দিলেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫১ ॥

অর্জুন উবাচ ।
দৃষ্ট্বেেদং মানুষং রূপং তব সৌম্যং জনার্দন ।
আদানীমস্মি সংবৃত্তঃ সচেতাঃ প্রকৃতিং গতঃ ॥

অনুবাদ: অর্জুন বললেন: হে জনার্দন, আপনার এই সৌম্য মনুষ্য রূপ দেখে আমি এখন প্রকৃতিস্থ হলাম এবং আমার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলাম।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫২ ॥

শ্রীভগবান্ উবাচ ।
সুদুর্দর্শম্ ইদং রূপং দৃষ্টবানাাসি য়ন্ মম ।
দেবা অপ্যস্য রূপস্য় নিত্য়ং দর্শন-কাঙ্ক্ষিণঃ ॥

অনুবাদ: শ্রীভগবান্ বললেন: তুমি আমার যে রূপ দেখলে, তা অত্যন্ত দুর্লভ। দেবতারাও সর্বদা এই রূপ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫৩ ॥

নাহং বেদৈর্ ন তপসা ন দানেন ন চেজ্য়য়া ।
শক্যএবংবিধো দ্রষ্টুং দৃষ্টবানাাসি য়থা মাাম্ ॥

অনুবাদ: আমি বেদ, তপস্যা, দান অথবা যজ্ঞের দ্বারা এইভাবে দর্শনীয় নই, যেমন তুমি আমাকে এখন দেখলে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫৪ ॥

ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহম্ এবংবিধোঽর্জুন ।
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্ৱেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ ॥

অনুবাদ: হে পরন্তপ অর্জুন, কেবল অনন্য ভক্তির দ্বারাই আমাকে এই রূপে জানা, তত্ত্বগতভাবে দর্শন করা এবং আমার মধ্যে প্রবেশ করা সম্ভব।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ শ্লোক ১১.৫৫ ॥

মত্কর্মকৃন মত্পরমো মদ্ভক্তঃ সঙ্গবর্জিতঃ ।
নির্বৈরঃ সর্বভূতেষু যঃ স মামেতি পান্ডব ॥

অনুবাদ: হে পাণ্ডব, যে ব্যক্তি আমার জন্য কর্ম করে, আমাকেই পরম লক্ষ্য মনে করে, আমার প্রতি ভক্তিপরায়ণ, আসক্তি রহিত এবং সকল প্রাণীর প্রতি শত্রুতাহীন, সে আমাকে লাভ করে।
বাংলা ব্যাখ্যা
॥ ইতি বিশ্বরূপ দর্শন যোগো নাম একাদশোঽধ্যায়ঃ সমাপ্ত ॥

এইভাবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা উপনিষদের ব্রহ্মবিদ্যা এবং যোগশাস্ত্রের অন্তর্গত শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের সংবাদে 'বিশ্বরূপ দর্শন যোগো' নামক একাদশ অধ্যায় সমাপ্ত হলো।